কলকাতা:  এবার মমতার হাত ছাড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। 'কালীঘাট তৃণমূল' ছেড়েই গেলেন 'ঋতব্রত তৃণমূল'-এ। এই প্রসঙ্গে  নাম না করেই এবার তীব্র কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, "বক্তব্য শুনতে বাধ্য নই", কেন রাজ্যের নবনির্বাচিত বিধায়কদের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে এলেন কুণাল ঘোষ ?

Continues below advertisement

এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, "আসল তৃণমূলটা লুপ্ত হয়ে যাবে। ওটা দরকারও আছে। তৃণমূল মানে দুর্নীতির প্রতীক হয়ে গেছে। একসময়ের সততার প্রতীক থেকে দুর্নীতির প্রতীক, তৃণমূল নামটা আছে। এখন মজার বিষয়টা হচ্ছে, যারা সব কিছু লাভ নিয়েছেন সেই দুর্নীতির সঙ্গে সঙ্গে, তাঁরাও আজকে, জামা-কাপড় ধুয়ে ফেলতে চাইছেন। আমরা সবাই জানি, উনি দেরিতে বুঝলেন। যে বাজেট ট্রেড মিলে তৈরি হয়,সেই বাজেট নিয়ে আলোচনা করার কি আছে ? তাই বাংলার এই আর্থিক দুরাবস্থা সমস্ত দিক দিয়ে, এটা হচ্ছে পাগলামির চূড়ান্ত। এতদিন পর্যন্ত সুবিধা ভোগ করেছেন, বলেননি। আজকে দেখলেন যে পার্টিটা উঠে গিয়েছে। অন্য রাস্তা খুঁজছেন। ..এর কোনও গুরুত্ব নেই এখন আর।"

শনিবার, সকালে দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পদত্যাগের চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। আর দুপুরেই বিধানসভায় পৌঁছে গেলেন।শুধু গেলেনই না, প্রায় ১ ঘণ্টা বিরোধী দলনেতার ঘরে, ঋতব্রত তৃণমূল গোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বিধানসভার ভিতরে এদিন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ঘরে প্রায় ১ ঘণ্টা ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। ছবিতে দেখা যায় চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উল্টোদিকেই বসে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়, ফিরহাদ হাকিম, দেবাশিস কুমাররা। এন্টালি বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলেন, দমবন্ধ পরিবেশের মধ্য়ে, মমতাদির সঙ্গে থেকে গেছিলেন বেশ কিছুদিন। কিন্তু, তাঁর আনুগত্য় নিয়ে আজকে প্রশ্ন। সেটা হয়তো কোথাও গিয়ে তাঁর বিবেকে লেগেছে। তিনি মনে করেছেন আমাদের এখানে অনেক বেশি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমরা দলটাকে চালাতে চেয়েছি। সেই কারণেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত আমার মনে হয়। তিনি সিনিয়র লিডার, আমাদের সঙ্গে এখানে এসেছেন, তাঁর অভিজ্ঞতা আমাদের আগামীদিনে পথ চলায় কাজে আসবে। 

 এনিয়ে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে বিজেপি। রাজ্য় বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, কে কার সঙ্গে কোথায় বসছেন সেটা নিয়ে আমাদের কোনও মাথা ব্যথা নেই । দুর্নীতি যাদের একমাত্র নীতি ছিল তারা ক্ষমতাচ্যুত হবেই । সেটাই হয়েছে তাই তৃণমূল কংগ্রেস গেছে দলের অস্তিত্ব নেই আর। '