কলকাতা : "তৃণমূল নিয়ে আর বেশি আলোচনা না করতে হলে... একটা সময় কিন্তু আমরা সত্যি দক্ষিণপন্থী বনাম বামপন্থী...পশ্চিমবঙ্গে সিরিয়াস রাজনীতির জায়গায় পৌঁছাতে পারব।" 'ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন' অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্র। 

Continues below advertisement

তৃণমূলের চার বারের সাংসদ। চার বারই উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত থেকে। মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী। সেই কাকলি ঘোষদস্তিদার আজ কেন বিদ্রোহী ? বিধানসভার পর সংসদেও তৃণমূলের ভাঙনের পর এনিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে। এই বিদ্রোহী ব্লকের অন্যতম মুখ কাকলি। অথচ এক-দুই বা পাঁচ বছর নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সম্পর্ক চার দশকেরও বেশি। নানা উত্থান-পতন-সুসময়-দুঃসময়ের সাক্ষী তিনি। তিনি সুখের সময়ের তৃণমূলী নন। কাকলি, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে রাজনীতি শুরু করার ২২ বছর পর MP হয়েছেন, রাস্তায় মার খেয়েছেন। আজ তিনি বিদ্রোহী ব্লকের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে, বাঁকুড়ার বহু পুরনো নেতা অরূপ চক্রবর্তী। তিনি তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে মমতার সঙ্গে ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'কিচেন-ক্যাবিনেট' যাকে বলা হত, তার সদস্য চিরকাল ববি হাকিম। প্রায় বাড়ির সদস্য। কাউন্সিলর হওয়ারও আগে থেকে মমতার সঙ্গে রাজনীতি করছেন। সেই ববি হাকিম আজ বিরোধী দলনেতার ঘরে বসে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করছেন। ইঙ্গিত স্পষ্ট। আবার উল্টোদিকে, যাঁদের হাতে করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতা-নেত্রী বানিয়েছেন, সেই জুন মালিয়া, শতাব্দী রায়, প্রসূন ব্যানার্জি, দেব -- তাঁরা স্পষ্টতই এখন অন্য দিকে আছেন। এর কারণ কি শুধুই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, নাকি এর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কারণ? 

Continues below advertisement

এবিপি আনন্দর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও 'ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন' অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সুমন দে-র এই প্রশ্নের উত্তরে শুভময় মৈত্র তীব্র কটাক্ষ করেন তৃণমূলকে। তিনি বলেন, "এই যে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়া...যেটা বিরাট সমস্যা হয়ে যাচ্ছে...শমীক ভট্টাচার্যও বলেছেন, ভাল তৃণমূল...বাজারে গিয়ে হিমসাগর কেনার সময় দেখবেন ৬০, ৮০, ১০০ থাকে। আজ সকালবেলা আমার হয়েছে। আমি ভাল হিমসাগর বলতে গিয়ে বলেছি, ভাল তৃণমূল পাওয়া যাবে ? কী করা যাবে ? আমরা তো সারাক্ষণই ভাল তৃণমূল-খারাপ তৃণমূল, এই শব্দটা সবসময় মিশে যাচ্ছে আমাদের কথার মধ্যে।"

তাঁর সংযোজন, "একটা মতাদর্শের দল, উদাহরণ হিসাবে...যেমন বিজেপি মতাদর্শভিত্তিক দল। তারা ভীষণভাবে সফল হয়েছে। আবেগ এবং মতাদর্শ মিলে গিয়ে তারা সফল হয়েছে। একইভাবে সিপিএমের তো শূন্য ছিল, এক ছিল...যাদবপুরে গিয়ে কয়েকজনের মাথা ফেটেছে তো। ফলে, মতাদর্শের রাজনীতির একটা ক্ষেত্র, যদি সত্যিকারে পশ্চিমবঙ্গে...আজ তৃণমূল বিদায়ের পর সম্পন্ন হয়...দক্ষিণপন্থা এবং বামপন্থা...গোটা পৃথিবীর যে রাজনৈতিক তত্ত্ব তারমধ্যে পড়ে। সেই লড়াই চিরন্তন। ভাল-খারাপ এগুলো পরের কথা। কিন্তু, তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্বের যে ব্যাপারটা...এটা মিটে গেলে তৃণমূল নিয়ে আর বেশি আলোচনা না করতে হলে, একটা সময় কিন্তু আমরা সত্যি দক্ষিণপন্থী বনাম বামপন্থী...পশ্চিমবঙ্গে সিরিয়াস রাজনীতির জায়গায় পৌঁছাতে পারব।"