কলকাতা: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর শনিবার প্রথম আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে গেলেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। আর সেদিন তাঁর দুয়ারে কড়া নাড়ল CID। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে চলল টানটান নাটক। শেষ অবধি বিধানসভার সই বিতর্কে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে নোটিস ধরাল CID। 

যদিও এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'যদি বিজেপি মনে করে, প্রথমে  ED, CBI ছিল, এখন রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশ এসেছে। সঙ্গে KMC এসেছে। ওরা ভাবে যে, ৫-৬টা এজেন্সিকে ব্যবহার করব, আর একে যেভাবেই হোক বুঝিয়ে মাথানত করাব। আমি ওরকম লোক নই। আপনাকে ১০বার ভাবতে হবে, আপনাকে ৭ বার জন্ম নিতে হবে আমাকে ঝোকানোর জন্য। আরে ক্ষমতা থাকলে আমাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাক'।

এদিকে এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, 'ইতিমধ্যে তৃণমূলের মধ্যেই ডাক উঠেছে যে একাধিক বিধায়ক নেতাদের যে সই দেখা গিয়েছে তা তাঁদের নয়। সেই বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া সিআইডির হাতে রয়েছে। এই তদন্তের ক্ষেত্রে দলের শীর্ষ নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে এটাই স্বাভাবিক। সিআইডি নেতাদের কতক্ষণ উনি বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। এখনও যা অহংকার এর, ভুলে গেছেন গণতন্ত্রে মানুষ শেষ কথা বলে। মানুষ ইতিমধ্যেই দমিয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফলতায় ডাবল ডোজে দমিয়েছে। তাই এই অহমিকা ছেড়ে মাটিতে নামুন উনি।'                                                     

শনিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের 188A হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে পৌঁছন CID-র ৫ সদস্যের টিম। 188A হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ির সামনে যখন এই ছবি, তখন অন্যদিকে বেলেঘাটায় কুণাল ঘোষের বাড়িতে নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। কিছুক্ষণের মধ্যে ২ বেজে ২২ মিনিট নাগাদ কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। 

এরপর, অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির দিকে রওনা হয় CID। CID-র অফিসাররাও জানিয়ে দেন, তাঁরা নোটিস অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের হাতেই দেবেন। এরপর, পৌনে ৩টে নাগাদ নিজের হাতে সই করে নোটিস নেন অভিষেক। সোমবার বেলা ১২টার সময় ভবানীভবনে অভিষেককে বন্দোপাধ্যায়কে তলব করেছে CID.