সৌভিক মজুমদার ও বিজেন্দ্র সিংহ, কলকাতা : ফের সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল I-PAC মামলার শুনানি । গত মঙ্গলবার রাজ্যের দেওয়া হলফনামা পড়ার জন্য ৭ দিন চেয়ে নেন ইডির আইনজীবীরা। আদালত আজ মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি নতুন শুনানির দিন দেয়। কিন্তু আজও হল না এই মামলার শুনানি। ১৮ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ আদালতে I-PAC মামলার শুনানি হবে। জানা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী কপিল সিব্বল অসুস্থ হওয়ায় পিছিয়ে গেল শুনানি।  

Continues below advertisement

মঙ্গলবার, শুনানি শুরুর আগে, জুনিয়র এক আইনজীবী এজলাসে এসে জানান, কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল, খানিকটা সময় চান। তাঁর পক্ষে এখন সওয়াল-জবাব করা সম্ভব না। তা শুনে কেন্দ্রীয় সরকার ও ED-র আইনজীবীরাও কোনও বিরোধিতা করেননি। এরপরই আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলার শুনানির তারিখ ঘোষণা করে বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ। 

গত ৮ জানুয়ারি  IPAC-এর কলকাতার অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। কয়লা পাচার সংক্রান্ত পুরনো একটি মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি বলে জানা যায়। কিন্তু এদিন ইডির তল্লাশির মাঝেই দু'জায়গায় পৌঁছে যান রাজ্যের মুখ্য়মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই জায়গা থেকেই তিনি একাধিক নথি, ফাইল নিয়ে চলে আসেন ।

Continues below advertisement

মুখ্য়মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির মতো অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে যায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ( ED )। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ED-র কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই ফাইল ও ডিভাইস নিয়ে আসা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে শুনানির ঠিক আগের দিনই এই হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছিল। ফলে তার জবাব দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছিল ED। তখন এই মঙ্গলবারের দিনটি ধার্য করা হয়। কিন্তু এক সপ্তাহ পেরিয়ে , এই দিনও হল না শুনানি।  

ভোট এলেই রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ ওঠে চরমে। কিন্তু আইপ্য়াকের অফিস ও তাদের কর্ণধারের বাড়িতে ED তল্লাশি ঘিরে সংঘাত যে পর্যায়ে পৌঁছছে, তা এককথায় নজিরবিহীন। খোদ মুখ্য়মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফাইল-ডিভাইস চুরি-ছিনতাই-ডাকাতির মতো অভিযোগ তুলেছে ইডি! পাল্টা তৃণমূল প্রশ্ন তুলছে, হঠাৎ করে ভোটের আগেই কেন বিজেপি বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে এত তৎপর হয়ে ওঠে ED? সব মিলিয়ে এই মামলার শুনানির দিকে নজর সারা দেশেরই।