নয়া দিল্লি: ৩ বছর পর রাজ্যে ফের চালু হচ্ছে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প। হাইকোর্টের ১৮ জুনের রায়ের বিরুদ্ধে করা কেন্দ্রের আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে। এই প্রকল্পে টাকা দিতে হবে কেন্দ্রকেও, জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে প্রায় ৩ বছর এই প্রকল্পে টাকা দেওয়া বন্ধ রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। অর্নির্দিষ্টকালের জন্য কোনও অনুদান এভাবে বন্ধ রাখা যায় না, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।
গত ১৮ জুন কলকাতা হাইকোর্ট রায় দেয়, পয়লা অগাস্ট থেকে রাজ্য়ে ১০০ দিনের প্রকল্প চালু করতে হবে। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দেয়, রাজ্যের সব জেলাতেই তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে কেন্দ্র। দুর্নীতি রোধে প্রয়োজনীয় নজরদারিও চালাতে পারবে। এই রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সোমবার সেই আর্জি খারিজ করে দিল সর্বোচ্চ আদালত। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রের আবেদনের শুনানিতে সাফ জানায়— “আপনারা নিজেরাই আবেদন তুলে নেবেন, না কি আমরা তা খারিজ করে দেব?” শেষ পর্যন্ত আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়।
হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম কেন্দ্রকে বলেছিলেন, “যে সমস্ত অভিযোগ রয়েছে, সেগুলি ২০২২ সালের আগের। সেই সময়ের দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করুন, কিন্তু এখন প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখার কোনও কারণ নেই।” সেই নির্দেশের বিরুদ্ধেই কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টে যায়।
রাজ্য সরকারের আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "কলকাতা হাইকোর্ট যে অর্ডার দিয়েছিল যে ১ অগস্ট থেকে ১০০ দিনের কাজের টাকা দিতে হবে, সেই এসএলপি ডিসমিস করে দিয়েছে। ৩০ সেকেন্ডও সময় নেয়নি সুপ্রিম কোর্ট।'
এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের সোশাল মিডিয়া সেলের ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন, 'এটা আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে টাকা বন্ধ করে রেখেছিল। অমানবিক কাজ করে আসছিল। এটা সাংবিধানিক অধিকার। ১০০ দিনের কাজের টাকা পেতে গরীব মানুষ বাধ্য। শুধুমাত্র রাজ্যে নির্বাচনে পরাজয়ের পর খেটে খাওয়া মানুষের টাকা গলায় পা দিয়ে টাকা বন্ধ করে রেখেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার আওয়াজ তুলেছিলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ১০০ দিনের কাজের টাকা পাওয়ার জন্য দিল্লিতে আন্দোলন করেছিলেন। ধর্নায় বসেছিলেন। আইনি লড়াই করে গিয়েছি আমরা। কেন্দ্রীয় সরকার পর পর ধাক্কা খেয়েছিল।'
