সৌভিক মজুমদার, কলকাতা : সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেলেন জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের BDO প্রশান্ত বর্মন । আগামী ২৩ জানুয়ারির মধ্যে BDO প্রশান্ত বর্মনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। আদালতের নির্দেশ, আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করতে হবে প্রশান্ত বর্মনকে। গত ৩০ অক্টোবর, দত্তাবাদে নিউটাউনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় রাজগঞ্জের BDO প্রশান্ত বর্মনের। যদিও আগাগোড়াই তাঁর দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁর নাম।
গত ৩০ অক্টোবর, দত্তাবাদে উদ্ধার হয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ। ব্য়বসায়ীকে অপহরণ-খুনের অভিযোগে নাম জড়ায় জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের এই BDO, প্রশান্ত বর্মনের। ইতিমধ্য়ে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর একাধিক ঘনিষ্ঠকে। এই প্রেক্ষাপটে বারাসাত আদালতে অন্তর্বর্তী আগাম জামিনের আবেদন তখনই করেছিলেন BDO । গত ২৬ নভেম্বর সেই আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। এরপরই নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। গত ২২ ডিসেম্বর নিম্ন আদালতের নির্দেশ খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ নির্দেশ দেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রশান্ত বর্মনকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। কিন্তু সেই সময় পেরিয়ে গেলেও আত্মসমর্পণ করেননি BDO । হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন প্রশান্ত বর্মন। প্রশান্তর আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেল নির্দোষ। রাজ্য সরকারের আইনজীবী স্পষ্ট জানান, প্রশান্তকে জেরা করার দরকার আছে, তার জন্য প্রামাণ্য সিসিটিভি ফুটেজ তাদের কাছে আছে। অতঃপর প্রশান্ত বর্মনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। ঘটনাটি কী ঘটেছিল
নিউটাউনের যাত্রাগাছিতে খালের ধারে উদ্ধার হয় মেদিনীপুরের মোহনপুরের বাসিন্দা স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার ক্ষতবিক্ষত দেহ। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অপহরণ করে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়। এই ঘটনায় প্রথম এবিপি আনন্দে বিস্ফোরক দাবি করেন দোকানের মালিক ও প্রত্যক্ষদর্শী। স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দোকান মালিককেও অপহরণের অভিযোগ ওঠে। তিনি দাবি করেন, 'একজন বিডিও এসে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে গেছিল । আমাকে দত্তাবাদ থেকে গাড়িতে তোলা হয় । নীলবাতি লাগানো গাড়ি এসেছিল, সাইরেন বাজচ্ছিল । আমাকে ও স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে দুটি আলাদা গাড়িতে তোলা হয় । স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে নিয়ে অনেক দ্রত গতিতে ছুটছিল গাড়ি । বিডিও ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী ওই গাড়িতে ছিলেন। নিউটাউনের একটি বহুতলের সামনে আমাকে নামিয়ে দেয় । স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে নিয়ে ওই বহুতলে ঢুকে যান বিডিও। আমাকে ওই বহুতলের সামনে ছেড়ে দেওয়া হয়'। দাবি করেন দোকান মালিকে। সেটা ছিল এক মঙ্গলবারের ঘটনা। এরপর বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার হয়।