নয়া দিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে IPAC মামলার শুনানি শুরু হল। এবার বাড়তি সময় চাইল রাজ্য সরকার, বিরোধিতা করল ED। শুনানি স্থগিত করার আবেদন রাজ্যের, সাড়া দিল না সুপ্রিম কোর্ট। ED-র অভিযোগের উত্তর দিতে রাজ্য সরকারকে সময় দিল সর্বোচ্চ আদালত।
তবে রাজ্যের আবেদনের বিরোধিতা সলিসিটর জেনারেলের। দেশের শীর্ষ আদালতে তিনি জানিয়েছেন, 'তদন্ত চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী তদন্তের জায়গায় ঢুকে গেছেন, এ ঘটনা অস্বাভাবিক'। এই যুক্তি দেখিয়ে রাজ্যের শুনানির আবেদন স্থগিতের। তবে রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন, 'এই ধরনের আবেদন শুনতে পারে ৫ বিচারপতির বেঞ্চ। এই আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে ৫ বিচারপতির বেঞ্চ'।
৪ সপ্তাহ সময় ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে, জানালেন বিচারপতি মিশ্র। আমরা শুনব, শুনানি শুরু করুন, মন্তব্য বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর। 'ED যে Rejoinder জমা দিয়েছে, তাতে মূল মামলার আবেদনের থেকেও বেশি কথা বলা হয়েছে', সওয়াল রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ানের। 'আপনারা আদালতকে এটা বলতে পারেন না যে, আদালত কীভাবে শুনানি চালাবে', মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর। 'কেউ সময় নিয়েছে বলে আপনাকেও সময় নিতে হবে এটা কোনও যুক্তি হতে পারে না', মামলা হবে কিনা সেটা নিয়ে যুদ্ধ চলতে পারে না, মন্তব্য বিচারপতি মিশ্রর।
এর আগে IPAC মামলায় সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা পেশ করেছিল ED। যেখানে বলা হয়, নথি নেওয়ার আগে কোনও তদন্তকারী আধিকারিকের অনুমতি নেননি মুখ্যমন্ত্রী। 'যে নথিগুলি নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা তৃণমূলের নাকি কয়লাপাচারের সে সম্পর্কে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ED-র অফিসারদের কাছে শুধু দল সংক্রান্ত তথ্য নেওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। উপস্থিত ED অফিসাররা তাতে আপত্তি করেননি এবং মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ফাইল- ডিভাইস নেওয়ার অনুমতি দেন'।৩ ফেব্রুয়ারি মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দেওয়া হলফনামায় এই দাবি করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর হলফনামার জবাব দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টে ২ দফায় সময় চেয়েছিল ED।
এর আগে IPAC মামলায়, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা পেশ করেছিল ED। যেখানে বলা হয়েছে, নথি নেওয়ার আগে কোনও তদন্তকারী আধিকারিকের অনুমতি নেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি যে নথিগুলি নিয়ে গেছেন সেগুলি যে শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসেরই ছিল, নাকি সেখানে কয়লাপাচার মামলার নথিও ছিল সেসম্পর্কে ED নিশ্চিত না। প্রশ্ন হল, শুনানির আগে এই হলফনামা জমা দেওয়া হল না কেন? এর আগে সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা হলফনামায় ED দাবি করেছিল, তল্লাশির সময়, যে পঞ্চনামা তারা তৈরি করেছিল, সেটা কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে করা হয়েছিল এবং, পুলিশকর্তাদের চাপের মুখে কার্যত জোর করে করানো হয়েছিল। ইডি র আধিকারিকদের কাজে বাধা দিয়ে এবং তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে।
