কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টে আজকের মতো I-PAC মামলার শুনানি শেষ হল। আগামী মঙ্গলবার ফের সর্বোচ্চ আদালতে শুনানি রয়েছে। তবে এদিন শুনানি চলাকালীন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করল আদালত। ভবিষ্যতে অন্য কোনও মুখ্য়মন্ত্রী ED-র তল্লাশিতে ঢুকে পড়লে কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। অন্য দিকে, ED-র হলফনামার জবাব দিতে সময় চেয়েছে রাজ্য। (IPAC Case Hearing)

Continues below advertisement

ED-র সঙ্গে রাজ্যের এই টানাপোড়েন নিয়ে এদিন তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র। তিনি বলেন, "ED অভিযোগ করছে, মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে হস্তক্ষেপ করেছেন। ED-র তদন্ত চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী ঢুকে পড়েন বলে অভিযোগ। যদি এটা কোনও অন্য মুখ্যমন্ত্রী করেন, তাহলে প্রতিকার কী? এটা খুব স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে, কে হস্তক্ষেপ করবে?" এতে রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিবল এতে BNS-এর ৩২ ধারার কথা বলেন। জানান, ওই আইনে সমাধান রয়েছে। (Supreme Court on Mamata Banerjee)

এদিন রাজ্যের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান। আধিকারিকদের সামনে রেখে, ED পিছন থেকে এভাবে মামলা করতে পারে না বলে যুক্তি দেন তিনি। বলেন, "রাষ্ট্রের একটি অঙ্গ, আর একটি অঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ। এমনটা হতে পারে বলে সংবিধান রচনার সময় কেউ কল্পনাও করেননি। রাষ্ট্র বনাম রাষ্ট্র, সংবিধানের মৌলিক ধারণার কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত।"

Continues below advertisement

ED-র তরফে মামলা করা হলেও, মামলাকারী যে কোনও ব্যক্তি নন, তা আদালতে তুলে ধরেন দিওয়ান। বলেন, "এখানে মামলাকারী কোনও ব্যক্তি নন, যাঁর কোনও মৌলিক অধিকার আছে। রাষ্ট্রের কোনও অঙ্গ মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করতে পারে না, রাষ্ট্র হয়ে, রাষ্ট্রেরই কোনও অঙ্গ এমন অভিযোগ তুলতে পারে না। ED-কে মামলা করার অনুমতি দেওয়া হলে, অন্য তদন্তকারী সংস্থাগুলিকেও দিতে হবে, যা সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে হয় না।"

এদিন ED-র হলফনামার জবাব দিতে আরও সময় চায় রাজ্য।, যার বিরোধিতা করে ED. সেই নিয়ে সওয়াল-জবাব চলাকালীন সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ইতিমধ্যেই চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। পাল্টা দিওয়ান জানান, ED-র তরফে যে রিজয়েন্ডার দেওয়া হয়েছে, তাতে মূল মামলার চেয়েও বেশি কথা লেখা রয়েছে। কিন্তু বিচারপতি বলেন, "কেউ সময় নিয়েছে বলে আপনাকেও সময় নিতে হবে, এটা যুক্তি হতে পারে না। মামলা হতে পারে কি না, যুদ্ধ চলতে পারে না সেটা নিয়ে।"

এর আগে, ED-র তরফে যে হলফনামা পেশ করা হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল, নথি নেওয়ার আগে কোনও তদন্তকারী আধিকারিকের অনুমতি নেননি মমতা। তিনি যে নথিগুলি নিয়ে গিয়েছেন সেগুলি যে শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসেরই ছিল, নাকি সেখানে কয়লাপাচার মামলার নথিও ছিল, সেই নিয়ে নিশ্চিত নয় তারা। অন্য দিকে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে শুনানির আগে, মমতা যে হলফনামা দেন, সেখানে দাবি করা হয়, মুখ্য়মন্ত্রী বিনীতভাবে ED-র অফিসারদের কাছে দল সংক্রান্ত তথ্য় নেওয়ার অনুমতি চান। উপস্থিত ED অফিসাররা তাতে আপত্তি করেননি এবং তাঁকে ফাইল ও ডিভাইস নেওয়ার অনুমতি দেন। এর পর ED আধিকারিকদের কাজে অসুবিধা সৃষ্টি না করে সেখান থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এর অনেক ক্ষণ পরও তথাকথিত তল্লাশি চলে। মুখ্যমন্ত্রীর হলফনামার জবাব দিতে সময় চেয়েছিল ED-ও। ১৮ ফেব্রুয়ারি ফের সুপ্রিম কোর্টে সময় চায় তারা।