বিজেন্দ্র সিংহ, নয়াদিল্লি : জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে ৪ মাস সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট । জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের টানাপড়েনের মধ্যে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল না দেশের শীর্ষ আদালত। বরং  নির্বাচন কমিশনকে এই বিতর্কের নিষ্পত্তির জন্য আরও সময় দেওয়া হল। অর্থাৎ পুরভোটের আগে নয়, জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আরও পরে। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে কার্যত মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে একটা ধাক্কাই বলা যায়। কারণ, পুরভোটের আগে জোড়াফুল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। আর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির আগে EVM-এ ফিরছে না জোড়াফুল। 

Continues below advertisement

৬ অক্টোবর, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন। তার আগে, জোড়াফুল প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসকে ফুটবলার এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে খাম প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্য়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। 

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে অতিরিক্ত নথি ও তথ্য জমা দিতে হবে তৃণমূলের দুই পক্ষকেই।  এরপর শুনানি ও নথিপত্র খতিয়ে দেখেই প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কমিশন। তার জন্য তারা আরও ৩ মাস সময় নিতে পারে। আপাতত মমতা তৃণমূলকে ফুটবলার ও গণতান্ত্রিক তৃণমূলকে খাম প্রতীকে লড়তে হবে পুরভোটে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, সব পক্ষকে আগে নিজেদের অতিরিক্ত নথি ও প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তার জন্য দেওয়া হয়েছে চার সপ্তাহ সময়। তারপর নির্বাচন কমিশন আরও তিন মাস সময় পাবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে প্রায় চার মাসের মধ্যে জোড়াফুল প্রতীক  সংক্রান্ত বিরোধের কোনও মীমাংসা হওয়ার সম্ভাবনা কম।  এখন সেপ্টেম্বরের শেষ। অক্টোবরের শেষ অবধি সময় থাকবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত  বন্দ্যোপাধ্যায়দের কাছে। তারপরের ৩ মাস নির্বাচন কমিশনের কাছে সময়। অর্থাৎ, ফেব্রুয়ারিতে হয়তো ফাইলান অর্ডার আসতে পারে।

Continues below advertisement

এই নির্দেশের ফলে পুরভোটের আগে জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে যে আইনি ও সাংগঠনিক টানাপড়েন চলছে, তা পুরভোটের আগে শেষ হবে না। তবে পরিস্থিতি যদি কোনও কারণে অত্যন্ত জরুরি হয়ে ওঠে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়, সেক্ষেত্রে আদালতকে বিষয়টি জানাতে পারবে কমিশন।