বিজেন্দ্র সিংহ, আশাবুল হোসেন, কলকাতা: ট্রাইব্য়ুনালের গতি নিয়ে কড়া মন্তব্য় করল সুপ্রিম কোর্ট। আপিল ট্রাইব্যুনালে কতগুলি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে এই প্রশ্ন করে, আজ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বলে, বর্তমানের মতো নিষ্পত্তির হার চলতে থাকলে পরবর্তী নির্বাচনের আগেও হয়তো সব কাজ শেষ হবে না।মামলাকারী ও কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের এই উদাসীনতা, পক্ষপাতিত্ব এবং তাদের অকর্মণ্যতার জন্য আজ একটা লক্ষ লক্ষ বাংলার মানুষ, শুধু তারাই নয়, তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম-সমেত আজ তারা কী দুর্বিসহ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলেছে। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, অন্নপূর্ণা যোজনা-সহ এই ৬ প্রকল্প নিয়ে জরুরি বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, ‘যারা পাবেন না..’, প্রশাসনিক বৈঠকে কী নির্দেশ ?

Continues below advertisement

আপিল ট্রাইব্যুনালে কতগুলি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে? কোনও ঘাটতি থাকলে মামলা নিষ্পত্তির পুরো কাঠামো পুনর্গঠন করা হবে। বর্তমানের মতো নিষ্পত্তির হার চলতে থাকলে পরবর্তী নির্বাচনের আগেও হয়তো সব কাজ শেষ হবে না। প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীর করা মামলায়, ট্রাইব্য়ুনালের গতি নিয়ে এরকমই কড়া মন্তব্য় করল সুপ্রিম কোর্ট। অধীর চৌধুরী বলেন,  ‘আমাদের দাবি হচ্ছে, প্রথমত তাড়াতাড়ি করে মিটিয়ে ফেলতে হবে মামলা। দ্বিতীয়ত, তোমাদের দেরীর জন্য মানুষ রেশন পাবে না, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট (Domicile Certificate) পাবে না, নিটে পরীক্ষা দেবার ক্ষমতা নেই, অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ছেড়ে দিন, পাসপোর্ট করার ক্ষমতা থাকবে না। এবং শুধু তাই নয়, পরের প্রজন্ম যারা, তাঁরা ভোটার হতে পারবে না, জমি কেনাবেচা করতে পারবে না, শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের এই উদাসিনতা, পক্ষপাতিত্ব এবং তাঁদের অকর্মন্যতার জন্য আজকে একটা লক্ষ লক্ষ বাংলার মানুষ, শুধু তারাই নয়, তাঁদের ভবিষ্যত প্রজন্ম সমেত, আজকে তাঁরা কী দুর্বিসহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলেছে, এটা তার সবথেকে জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ।’  পশ্চিমবঙ্গে SIR-এ সব মিলিয়ে ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫ জনের নাম বাদ পড়ে। এসআইআরে বাদ পড়া ভোটারদের আপিল শোনার জন্য ট্রাইবুনাল গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তিন মাস হল বিধানসভা ভোট মিটে গিয়েছে। নতুন সরকার তৈরি হয়ে গেছে। কিন্তু ট্রাইবুনালে আবেদন নিষ্পত্তির গতি নিয়ে শঙ্কিত সুপ্রিম কোর্ট। অধীর চৌধুরীর দায়ের মামলার শুনানি মঙ্গলবার হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। অধীর চৌধুরীর আইনজীবী সর্বোচ্চ আদালতে বলেন, যাঁদের আপিল ট্রাইব্যুনালে ঝুলে আছে, তাঁরা সরকারের সামাজিক প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁদের রেশন দেওয়া হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত মাত্র ১ শতাংশ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট জানতে চায়, আপিল ট্রাইব্যুনালগুলো কতগুলো মামলা নিষ্পত্তি করেছে? এই প্রক্রিয়ায় ট্রাইব্যুনালগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তাই তাদের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। 

কোনও ঘাটতি থাকলে মামলা নিষ্পত্তির পুরো কাঠামোটি পুনর্বিবেচনা ও পুনর্গঠন করা হবে।সুপ্রিম কোর্ট ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, বর্তমানের মতো নিষ্পত্তি চলতে থাকলে পরবর্তী নির্বাচনের আগেও হয়তো সব কাজ শেষ হবে না। ট্রাইব্যুনালগুলো আমরাই তৈরি করেছি এবং এর ফলাফল দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে নিষ্পত্তির সংখ্যার বিষয়টি পর্যালোচনা করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, কমিশনের কর্মকর্তারা এদিন (মঙ্গলবার) হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক করছেন। পরবর্তী শুনানির আগেই রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। অধীর চৌধুরী বলেন, তোমাদের দেরির জন্য মানুষ রেশন পাবে না, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট পাবে না, NEET-এর পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা নেই। অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ছেড়ে দিন, পাসপোর্ট করার ক্ষমতা থাকবে না। ভারতবর্ষে আজ যে নির্বাচন কমিশনের অবস্থা, আমার মনে হয় তাকে ডি কমিশন করে আবার নতুন করে কিছু কমিশন করা উচিত।'বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, আমরা চাই ত্রুটিমুক্ত ভোটার লিস্ট। পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে SIR-এর কাজ হয়েছে, খুব একটা মসৃণভাবে হয়নি। সেখানেও BDO অফিস ভাঙচুর হয়েছে, রাস্তায় অবরোধ করা হয়েছে। এমনকি বিজেপি বিধায়কদের কাছ থেকে ফর্ম কেড়ে নিয়ে সেখানে আগুন লাগানো হয়েছে। তখন কিন্তু এরা কেউ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেনি। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২৫ অগাস্ট।