সৌভিক মজুমদার, বিজেন্দ্র সিং, নয়া দিল্লি : বুধবার সুপ্রিম কোর্টে IPAC-এ ED-র তল্লাশি মামলার শুনানি। মুখ্যমন্ত্রীর হলফনামার জবাবে ED কী বলে, সর্বোচ্চ আদালতে আজ সেদিকেই নজর।

Continues below advertisement

গত ৮ জানুয়ারি সল্টলেকে IPAC-এর অফিস ও লাউডন স্ট্রিটে IPAC-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের আবাসনে তল্লাশি অভিযান চালায় ED । ED-র তল্লাশির মাঝেই দু'জায়গায় পৌঁছন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল নিয়ে চলে আসেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে যায় ED ।

সুপ্রিম কোর্টে ED যে পিটিশন দাখিল করে, তার ছত্রে ছত্রে অভিযোগ তোলা হয়, মুখ্যমন্ত্রী এবং শীর্ষ পুলিশকর্তাদের বিরুদ্ধে। ১৫ জানুয়ারি,  ED-র মামলায় সুপ্রিম কোর্টে একসঙ্গে ধাক্কা খায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার তৃণমূল ও পুলিশ। বারবার আবেদন সত্ত্বেও কলকাতা হাইকোর্টে মামলা ফেরায়নি সুপ্রিম কোর্ট। পুলিশের দায়ের ৪টি FIR-এর ওপরই স্থগিতাদেশ জারি করে সর্বোচ্চ আদালত। যে দুই জায়গায় ইডি তল্লাশি চালিয়েছিল, সেখানে ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সব পক্ষকে নোটিস জারি করে ২ সপ্তাহের মধ্য়ে হলফনামা জমা দিতে বলা হয়।

Continues below advertisement

সেদিন কী হয়েছিল কোর্টে?

সুপ্রিম কোর্টে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ED-র কাছে তথ্য ছিল ঘটনাস্থলে প্রমাণ ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিস রয়েছে। তারা (ED) স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে সেখানে যায়। মুখ্যমন্ত্রী DG এবং DC-কে সঙ্গে নিয়ে সেখানে আসেন। তাঁরা সেখান থেকে জিনিসপত্রগুলো নিয়ে যান, যা চুরির মতো অপরাধের সামিল। তিনি (মুখ্যমন্ত্রী) একজন ED অফিসারের মোবাইল ফোন-সহ সবকিছু নিয়ে যান। রাজ্য পুলিশ এবং মুখ্যমন্ত্রী কি এটা করতে পারেন? একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হোক। কর্মকর্তাদের সাসপেন্ড করা হোক। ইডির তরফে অ্য়াডিশনাল সলিসিটর জেনারেল SV রাজু বলেন, রাজ্য পুলিশের DG এবং পুলিশ কমিশনারের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী চুরি করেছেন। তাই CBI তদন্ত জরুরি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, চেয়ারপার্সনের (তৃণমূল কংগ্রেস) সেখানে যাওয়ার অধিকার ছিল।  তিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ল্যাপটপ ও আইফোন ১৭ প্রো নিয়ে গেছেন, এটুকুই, এর বেশি কিছু নয়। বিচারপতিরা তখন বলেন, প্রত্যেকে সংস্থা যাতে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে পারে, সেটা দেখতে হবে। এরপরই ৩রা ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে আদালত। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি শুনানির আগে ED-র তোলা চুরি-ডাকাতির অভিযোগ অস্বীকার করে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ED সেই হলফনামা দেখতে সময় চাওয়ায়, ফের পিছিয়ে যায় আইপ্য়াক-মামলার শুনানি।  

এরপর গত ১০ ফেব্রুয়ারি সেই সংক্রান্ত শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কপিল সিব্বল অসুস্থ থাকায়, শুনানি পিছিয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি করা হয়। বুধবার বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চে সেই শুনানি হওয়ার কথা।