নয়া দিল্লি: SIR মামলায় বুধবার সুপ্রিম কোর্টে বেনজির এক ঘটনা দেখেছে গোটা দেশ। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার সর্বোচ্চ আদালতে দাঁড়িয়ে সওয়াল করেছেন কোনও মুখ্যমন্ত্রী। আদালতে দাঁড়িয়ে নিজের করা মামলায় নিজেই সওয়াল করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার এই মামলার শুনানি ছিল। এদিন, 'SIR হবেই, বাধা দেওয়া যাবে না', স্পষ্ট জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। 'SIR হবেই, এটা সব রাজ্যকে বুঝতে হবে। প্রক্রিয়া সুষ্ঠভাবে চলার জন্য যা নির্দেশ দেওয়ার দেব', SIR-মামলায় কড়া পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের।
সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা এসআইআর মামলার শুনানি চলে আজ। ৮ হাজার ৫৫৫ জন গ্রুপ-B অফিসারের নাম পাঠানো হয়েছে, জানালেন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী। আমরা শুধু সংখ্যা পেয়েছি, কোনও নাম পাইনি, সুপ্রিম কোর্টে জানাল কমিশন। ৭ তারিখ এই নাম পাঠানো হয়েছে, ৪ বা ৫ তারিখও পাঠানো যেতে পারতো, মন্তব্য প্রধান বিচারপতির। আপনারা নামের বিস্তারিত তালিকা কেন পাঠাননি? প্রশ্ন প্রধান বিচারপতির।
এই মামলায় দেশের শীর্ষ আদালতের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্য জবাব দেয়, 'আমরা কমিশনের উত্তরের অপেক্ষা করছিলাম।' এর পর প্রধান বিচারপতি বলেন, 'আমরা তথ্য নিয়ে কোনও বিতর্ক চাইনা, তাহলে আমাদের মুখ্যসচিবকে হলফনামা দিতে বলতে হবে'।
সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল রাজ্যের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির। তিনি বলেন, 'ECI কোনও দিন রাজ্যের কাছে গ্রুপ-B অফিসার চায়নি'। কর্মীর অভাবে বাইরে থেকে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করেছিল নির্বাচন কমিশন, মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির। 'আমাদের ৩০০ জন গ্রুপ বি অফিসার প্রয়োজন', আদালতে সওয়াল কমিশনের আইনজীবীর। 'কিন্তু গ্রুপ বি অফিসার দেওয়া হয়েছিল ৮০ জন, বাকি গ্রুপ সি কর্মী', সওয়াল নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীর।
আদালতে সওয়াল অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির। তিনি বলেন, '২৯৪ জন ইআরও রয়েছেন, এই গ্রুপ বি অফিসাররা ইআরওকে রিপোর্ট করেন, এবং ইআরও একজন গ্রুপ এ অফিসার। সমস্ত ইআরও অর্থাৎ ২৯৪ জন সবাই গ্রুপ এ অফিসার, তাঁরা সবাই SDM, তাঁদের মধ্যে কিছু IAS Officer', সওয়াল প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া নিয়ে তৃণমূল সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, 'পশ্চিমবাংলায় যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এটাকে নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে মামলা করছেন, এই জন্য আজকে এত পরিবর্তনগুলো হচ্ছে। না হলে ইলেকশন কমিশন রোলার চালাত। ওরা ভেবেছিল এটাকে রোলার চালিয়ে উড়িয়ে দেব। বিজেপির হাতে তুলে দেব। সেটা করতে পারেনি।'
