কলকাতা: তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ গ্রেফতার। পুরী থেকে গ্রেফতার করা হল তাঁকে। কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত। তোলাবাজি, হুমকি-সহ একাধিক ধারায় FIR দায়ের হয়েছে। গ্রেফতার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর। পুরী থেকে গুন্ডা দমন শাখার হাতে গ্রেফতার হলেন তিনি। তোলাবাজির অভিযোগে FIR দায়ের হওয়ার পর থেকেই পাওয়া যাচ্ছিল না তাঁকে। অবশেষে পুরী থেকে গ্রেফতার হলেন। (Sushanta Ghosh Arrested)

Continues below advertisement

বুধবার পুরী থেকে সুশান্তকে গ্রেফতার করা হল। পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার সীমানা অঞ্চল বেলদায় তাঁর উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল এর আগে। কিন্তু গাড়ি ফেলে, পরিবারের সদস্যদের ফেলে পালিয়ে যান সুশান্ত। শেষ পর্যন্ত পুরী থেকে গ্রেফতার হল তাঁকে। এই নিয়ে কলকাতা পুরসভার আর এক প্রাক্তন কাউন্সিলর গ্রেফতার হলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, তোলাবাজি-সহ একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের হয় সুশান্তর বিরুদ্ধে। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার আধিকারিকরা তাঁকে গ্রেফতার করে পুরী থেকে। এফআইআর নিয়ে প্রথমে আনন্দপুর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে গোয়েন্দা শাখার হাতে ওঠে তদন্তভার। একটি দল গঠন করে এর পর তদন্ত শুরু হয়। গুন্ডা দমনকারী শাখার তদন্তকারীরাই শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করল সুশান্তকে। (TMC News)

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: ‘পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্রকেও ছাপিয়ে যাবে’, এবার ভাঙছে এই বড় দল? অমিত শাহের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ? বলছেন খোদ মন্ত্রী

সুশান্তর নামে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর এলাকায় বিক্ষোভ হয়। সেখান থেকে সুশান্তর এক শাগরেদকে প্রথমে ধরে পুলিশ। এর পর বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়। সুশান্তর বাড়িতেও যায় পুলিশ। কিন্তু সুশান্তর নাগাল মিলছিল না। গাড়ির চালককেও গ্রেফতার করা হয় সেই সময়। এতদিন পর, শেষ পর্যন্ত পুরী থেকে পাওয়া গেল সুশান্তকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশই সুশান্তর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তোলাবাজি, হুমকির অভিযোগ দায়ের হয়। কয়েক কোটি টাকার তোলাবাজির অভিযোগও ওঠে। পাশাপাশি, এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল, প্যান্ডেল করিয়ে টাকা দেননি সুশান্ত। সেই নিয়ে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর হয়েছিল। পুলিশের হাত থেকে তদন্তভার ওঠে গোয়েন্দা শাখার হাতে। গোপন সূত্রে মেলে যে, পুরীতে গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারেন সুশান্ত। এর পরই তদন্তকারীদের একটি দল পুরীর উদ্দেশে রওনা দেন। পুরী থেকে কলকাতা আনা হচ্ছে তাঁকে। আগামী কাল আদালতে পেশ করা হবে বলে খবর।

সুশান্তর গ্রেফতারি নিয়ে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, "তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহু মানুষকে এই পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। এদের চলে যেতে হয় কেন? পালাতেই বা হয় বা কেন? ধরেও আনতে হয়। বিষয়গুলি যখন ভাবি, মনে হয়, রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে এসবের ঊর্ধ্বে থাকতে হয়, লোভ সংবরণ করতে হয়, জনপ্রতিবিধি হিসেবে কিছু বিষয়ে জড়াতে নেই, সংযমী হতে হয়। এগুলো কিন্তু আমাদের পশ্চিমবঙ্গে ছিল না। এগুলো এনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সব দায় তাঁর।"

আরও পড়ুন: PoK পাকিস্তানের অংশ? ভুল মানচিত্র দেখাল আমেরিকা, মোদির বিদেশ সফর চলাকালীন জল-নিরাপত্তাতেও উদ্বেগ বাড়ল ভারতের

গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরই দলের প্রতি সুর বদলে যায় সুশান্তর। মে মাসের শেষে ১২ নম্বর বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। সেই সময় দলের প্রতি ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। ২০২৪ সালে তাঁর উপর হওয়া হামলার প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, তাঁর উপর হামলায় যিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, পরবর্তীতে তাঁকেই দলে পদ দেওয়া হয়। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অনুরোধ করেছিলেন, প্রকৃত দোষীকে যাতে খুঁজে বের করা হয়।