কলকাতা: পার্কস্ট্রিটের রাস্তার ফুটপাতে বাচ্চার জন্য দুধ গরম করার সময়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের ধমক খেয়েছিলেন এক মহিলা। যেই ভিডিও ক্লিপ সোশ্য়াল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। এই ইস্যুতে অগ্নিমিত্রা পালকে সোশ্য়াল মিডিয়ায় এসে কটাক্ষ করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। এবার প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রীকে পাল্টা খোঁচা দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নবান্ন সভাঘর থেকে বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'যান না নিজের বাড়িতে নিয়ে যাক। ওনার কথার ওপর তো ওনার দলের লোক বিশ্বাস করে না। হালিশহরে ওনার সঙ্গে ওনার দলের লোকের পরিবার কথা বলেনি। আমার সঙ্গে কথা বলেছে। ১০ লক্ষ টাকা নিয়েছে। চাকরি দিতে চেয়েছিলাম, বায়োডেটা পাঠিয়েছে। ওনার দলের লোকেরই ওনার ওপর বিশ্বাস নেই।' ফুটপাত জবরদখল আটকাতে গিয়ে পুরমন্ত্রীর ধমক ও শাসানির ভিডিও ভাইরাল হতেই ময়দানে নেমেছে বিরোধীরা। সেই তালিকায় প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রীও ছিলেন। অগ্নিমিত্রা পালকে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেছিলেন, 'অসহায় মানুষের থাকার ব্যবস্থা তো করুন।+দুধটাকে ফেলে দিতে আপনাদের গায়ে লাগে না? মনে রাখবেন মায়ের অভিশাপ, বড় অভিশাপ। চমকাচ্ছেন, ধমকাচ্ছেন? আমি এই পরিবারটার দায়িত্ব নিতে রাজি আছি। আমাদেরই কোনও সহকর্মীর বাড়িতে আমি তাদের থাকা, বাচ্চাদের পড়াশোনা শেখা, তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেব।'
ঠিক কী হয়েছিল?
'ফুটপাথের মধ্যে বাচ্চার দুধ গরম হবে? মজা পেয়েছে নাকি? স্টোভ জ্বালিয়ে এখানে বাচ্চার দুধ গরম হবে? পার্কস্ট্রিটে?', পার্ক স্ট্রিটে ফুটপাথ জবর দখল মুক্ত করতে গিয়ে এক ফুটপাথবাসী মহিলাকে এভাবেই ধমক দিতে দেখা যায় পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে। তাঁকে আরও বলতে শোনা যায় যে, 'কী এইসব? কী হচ্ছে কী? নতুন হয়েছে নাকি? নতুন ডেভলপমেন্ট? কী হচ্ছে? সংসার পাতা হয়েছে নাকি? সংসার পাতার জায়গা? কী হচ্ছে এগুলো? আপনাকে কে অধিকার দিয়েছে এখানে সংসার পাতার? আপনারা কোথা থেকে এসেছেন? বাড়ি কোথায়? এখানে এসেছেন কেন? এই সমস্ত মাদুর, ব্যাগ, থলি, সব হঠান। সব হঠান এগুলোকে।'
মুহূর্তেই এই ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। আর তারপরই পুরমন্ত্রীর ভূমিকা ও তাঁর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়। কিন্তু নিজের বক্তব্যে অটল ছিলেন পরবর্তীতেও অগ্নিমিত্রা পাল। নিজের ভিডিও বার্তায় পরবর্তীতে তিন জানান, 'ওখানে কেরোসিন স্টোভে এক গামলা দুধ জ্বাল দেওয়া হচ্ছে। রাস্তা দিয়ে অনবরত লোক যাচ্ছে, ছোট বাচ্চারা স্কুল থেকে যাচ্ছে। যে কোনও সময়ে দুর্ঘটনা হলে, তার দায় কে নেবে?'
