কলকাতা: সদ্য নির্বাচনের ফলাফল জানা গিয়েছে তখন। বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে বিজেপি। তখনও সিদ্ধান্ত হয়নি যে, শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) হবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তার মধ্যেই ঘটে যায় ভয়াবহ ঘটানাটা। মধ্যমগ্রামের কাছে রাস্তার ওপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে, নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। সেই ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই যে, গোটা বাংলা কেঁপে উঠেছিল। একেবারে পরিকল্পনা করে, গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছিল বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর আপ্তসহায়ককে। আর আজ, চন্দ্রনাথ রথের শেষকৃত্যে তাঁর বাড়িতে গেলেন, শুভেন্দু অধিকারী।
ছেলের শেষকৃত্যে বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী, কী বলছেন চন্দ্রনাথ রথের মা?
এদিন শুভেন্দু অধিকারীর তাঁর আপ্তসহায়কের বাড়িতে আসার প্রসঙ্গে, চন্দ্রনাথ রথের মা বলেন, 'উনি যে আমাদের বাড়ি এসেছেন, এ আমার পরম সৌভাগ্য। অনেকে পদ পাওয়ার পরে ভুলে যান, কিন্তু উনি আমার ছেলেকে মনে রেখেছেন। ছেলেকে মনে রেখে আমার বাড়ি পর্যন্ত এসেছেন, উনিও কান্নাকাটি করছেন। উনি বলেছেন, আমাদের পরিবারের পাশে সবসময়ের জন্য রয়েছেন। উনি ও বলেছেন, উনি দোষীদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি চাইছেন।'
এদিন চন্দ্রনাথ রথের মা আরও বলেন, 'উনি (শুভেন্দু অধিকারী) বলছেন, 'আমি নিরাপত্তা নিতে বলেছিলাম। নিজের প্রতি অবহেলা করেই হয়তো নেয়নি। তবে উনিও কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি চাইছেন। আমাদের ওঁর ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। উনি যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী, নিশ্চয়ই উনি এর বিচার করবেন। আমরা বিচার চাইছি। ভবানীপুরের হারটা হয়তো মাননীয়া মেনে নিতে পারেননি, তার জন্য ও হতে পারে। যাঁরা আমার ছেলের জীবনটা নিয়ে নিয়েছে, তাদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি হোক।'
চন্দ্রনাথের পরিবারের সঙ্গে কথা মুখ্যমন্ত্রীর
চন্দ্রনাথ রথের পরিবারে তাঁর মা, ভাই, ভাতৃবধূর সঙ্গে দেখা করেন, কথা বলেন শুভেন্দু। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চন্দ্রনাথ রথের বাড়িতেই রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর কী কথা হয়েছে, তা জানতে আগ্রহী অনেকে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কিছু বলেন কি না, সেদিকেও রয়েছে নজর। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের ঠিক তিন দিন আগে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলিতে ঝাঁঝরা করে খুন করা হয়েছিল তাঁর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। সেই ঘটনায় চার দিনের মাথায় বড়সড় সাফল্য পেয়েছিল তদন্তকারী দল। দুই ভিন্ন রাজ্য থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল তিন অভিযুক্তকে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক অপরাধমূলক কার্যকলাপের রেকর্ড রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে ‘সুপারি কিলার’ ব্যবহার করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল।
