ফলতা: উপনির্বাচনের আগে ফলতায় গিয়ে নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বার্তা দিলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানালেন, 'ভাইপো'র সম্পত্তির তালিকা আনিয়েছেন তিনি। কলকাতায় ২৪টি সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছেন। "বাংলাদেশের স্লোগান জয় বাংলা করে বেড়াচ্ছে", তাদের ছাড়া হবে না বলেও এদিন জানান শুভেন্দু। (Suvendu Adhikari)
আগামী ২১ মে ফলতায় উপনির্বাচন। সেই উপলক্ষে শনিবার সেখানে প্রচারে গিয়েছিলেন। আর সেখানে দাঁড়িয়েই নাম না করে অভিষেককে বার্তা দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, "মাননীয় ভাইপোবাবু, কাল প্রপার্টি লিস্টটা আনালাম কলকাতা কর্পোরেশন থেকে। আপনার লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস...২৪টি প্রপার্টি কলকাতায়। আমতলায় প্রাসাদের মতো অফিস।" (Abhishek Banerjee)
আরও পড়ুন: 'দেওয়ালে রক্তের দাগ, একটি ঘর বন্ধ এখনও', আর জি কর মামলায় এবার মারাত্মক অভিযোগ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের
শুভেন্দু আরও বলেন, "পুলিশকে ব্যবহার করে কী করেছে গুন্ডারা, জানি না আমরা! ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর হটুগঞ্জে আমার সভায় আসা লোকগুলোকে কী ভাবে মেরেছে, আমি ভুলে যাইনি। পৃথিবীটা গোল। চিরদিন কারও সমান নাহি যায়। ভুলব কী করে এগুলো? মানুষ তো শুধু চেয়ারে বসিয়ে দেয়নি! মানুষ বিচার চেয়েছে। পুলিশকে বলেছি, খাতাপেন নিয়ে বসুন কাল থেকে। গত পাঁচ বছর বা তারও আগে যত অত্যাচার হয়েছে, অভিযোগ এলে নিতে হবে। এফআইআর করতে হবে, গ্রেফতার করতে হবে, কোনও গুন্ডা বাড়িতে থাকবে না। আর যদি মা-বোন-দিদি-শিশুকন্যার উপর শারীরিক নির্যাতন করে, এখনও ওই বাংলাদেশের স্লোগান 'জয় বাংলা' করে বেড়াচ্ছেন, তাদেরও ছাড়া হবে না।"
গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার হয়েছেন, এখনও অনেকে ঘরছাড়া হয়েছে বলে বার বার অভিযোগ তোলা হচ্ছে তৃণমূলের তরফে। কলকাতা হাইকোর্টে সেই নিয়ে সওয়াল করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেই নিয়ে এদিন শুভেন্দু জানান, কত জন ঘরছাড়া জানানো হোক তাঁকে। সেই সঙ্গে তৃণমূল জমানায় ভোট পরবর্তী হিংসায় বিজেপি-র যত কর্মী মারা গিয়েছেন, যাঁদের বয়স ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে ছিল, তাঁদের রাজ্য় সরকার চাকরি দেবেন বলেও জানান শুভেন্দু।
গত আট দিনে তাঁর সরকার কী কী কাজ করেছে, সেই খতিয়ানও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, CAA-র আওতায় থাকা শরণার্থীরা থাকতে পারবেন। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের 'টাটা বাই বাই' করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, আর জি কর মামলার ফাইল পুনরায় খোলা নিয়েও এদিন বার্তা দেন তিনি। বলেন, "বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্য়ায়, অভিষেক গুপ্তের কল রেকর্ডস, চ্যাট যখন তদন্তকারীরা হাতে আসবে, তা যখন সামনে আসবে, সেদিন আগের সরকারের কুকীর্তি দেখতে পাবেন। জানতে পারবেন আগের সরকারের মাথারা কতদূর পর্যন্ত নেমেছিল।"
