কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ উদযাপন করা হয়েছে। ক্রেতা সুরক্ষার সপ্তাহের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই উপলক্ষে কলকাতায় ধর্মতলায় হগ মার্কেটের কাছে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'ক্রেতা সুরক্ষা দফতর কার্যত অবহেলিত দফতরের অন্যতম। আগের কোনও মুখ্যমন্ত্রী ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের কর্মসূচিতে এসেছেন, এমন দেখিনি'।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গে সর্বস্তরে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই প্রতারিত হচ্ছিলেন। প্রত্যেকদিন আনাজ, মাছ, ডিম এসব কিনতে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন প্রচুর মানুষ। আপনারা চিট ফান্ডের প্রতারণা দেখেছেন, পশ্চিমবঙ্গে ফ্ল্যাট কেনায় প্রচুর প্রতারণা হচ্ছে'।
এদিন তিনি বলেন, '১০ দিন আগে নিউটাউনে অভিযান চালিয়ে অবাক বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। ১২০ জন গ্রেফতার হয়েছে, তারা অর্ডার নিচ্ছে কিন্তু ডেলিভারি দিচ্ছে না। ক্রেতাকে সুরক্ষিত করা, বিক্রেতাকে শিক্ষিত করা ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের কাজ। হঠাৎ করে বিভিন্ন চিনি, আনাজের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা এদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিন্তু চালের তো দাম বৃদ্ধির কোনও কারণ ছিল না। বড় বড় দোকানে খাবারে রং মেশানো হচ্ছে, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। মিষ্টিতে নিষিদ্ধ রং মেশাচ্ছেন, বিষ খাওয়াচ্ছেন। পুরো ব্যবস্থাটাই পচন ধরে গিয়েছিল'।
এদিকে আজ মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা ও সাংবাদিকদের পেনশন যোজনার সূচনা করলেন। নবান্নে প্রকল্পের সূচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, 'সাংবাদিকরা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনায় চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। যাঁরা আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হতে পারেননি, তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পে যুক্ত করলাম। দেশের ৩৮ হাজার হাসপাতালে মিলবে পরিষেবা। অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মাসে ৫০০০ টাকা পেনশন। ২৫০০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে সাংবাদিকদের পেনশন ৫০০০ টাকা। অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নেই, ডেস্কে কর্মরত সাংবাদিকরাও পেনশন পাবেন। কলকাতা ও জেলার সাংবাদিকরা পুজোর সময় আবেদন করলে ৩০০০ টাকা পাবেন। দেশপ্রেমের প্রশ্ন আপনারা সবাই কঠোর মনোভাব নিয়ে চলবেন।'
