কলকাতা: প্রতিহিংসার আগুনে তপ্ত মুর্শিদাবাদ, মালদা। মুর্শিদাবাদকাণ্ডের প্রতিবাদে শনিবার কলকাতার পথে নামলেন শুভেন্দু অধিকারী। এলগিন রোডে নেতাজি ভবন থেকে মিছিল করে বিজেপি। মিছিল শেষেই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বিরোধী নেতা বলেন, 'হিসেব কষে হিংসা হয়েছে মুর্শিদাবাদে। যেসব আসনে বিজেপির ভোট বেশি, সেসব জায়গায় হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করিয়েছেন।'
শুভেন্দুর কথায়, 'রাজ্যকে বাংলাদেশে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী সরলেই আবার ফিরবে আতঙ্ক। মুর্শিদাবাদ থেকে পালিয়ে এসেছেন ১০ হাজার হিন্দু। সাংবিধানিক সংস্থাগুলিকে শুধু দেখলেই হবে না। আমরা চাই শুধু অ্যাকশন। এদিন হুঙ্কার দিয়ে শুভেন্দুর বক্তব্য, 'বৈষ্ণবনগরের ক্যাম্পকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পরিণত করা হয়েছে। বলছে বাড়ি ফিরে যাও, ফিরবে কোথায়, সব পুড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূলের বিধায়ক, পুরপ্রধানের নেতৃত্ব সব পুড়িয়ে দিয়েছে। সিদ্দিকুল্লারা হিন্দুশূন্য করতে চায়'।
আরও অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, '৩৩ শতাংশ এক করতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হরগোবিন্দ-চন্দন দাসের সঙ্গে ওয়াকফের কী সম্পর্ক? সম্পর্ক একটাই ভোটব্যাঙ্ক, ছাব্বিশে ক্ষমতায় ফিরতে হবে। আগে বিক্রি হয়েছে চাকরি, এবার প্রশ্ন বিক্রির পথ খুলে গেছে'।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে আছে বাংলাদেশেই। বাড়ি থেকে অপহরণ করে হিন্দু নেতাকে পিটিয়ে খুনের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। ইউনূস জমানায় বাংলাদেশে ফের মৌলবাদী-তাণ্ডব। বাসুদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা ভবেশচন্দ্র রায়। বাংলাদেশ পুজো উদ্যাপন পরিষদের বিরাল শাখার সহ সভাপতি ছিলেন বছর ৫৮-র ওই হিন্দু নেতা। পরিবারের অভিযোগ, দিনাজপুর জেলার ওই হিন্দু নেতাকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে বাড়ির সামনে ফেলে দিয়ে চলে যায় দুষ্কৃতীরা। সংবাদপত্র ডেলি স্টারে প্রকাশিত হয়েছে এই খবর।
এদিকে শনিবার সেখানকার দুর্গত এলাকায় পৌঁছলেন রাজ্য়পাল সিভি আনন্দ বোস।শুনলেন ক্ষতিগ্রস্তদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা। অন্য়দিকে একই দিনে ধুলিয়ান-সহ একাধিক জায়গায় পৌঁছল জাতীয় মহিলা কমিশনও। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের ঘরছাড়াদের সঙ্গে দেখা করতে মালদার ত্রাণশিবিরে যায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিদল।