কলকাতা: নেতাজী সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্যে এবার কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। বললেন, "যাঁরা দুঃসাহস দেখিয়েছেন, তা ভাল নয়, এটা ভাল ভাবে নিচ্ছি না। অবিলম্বে ক্ষমা চেয়ে পোস্ট করুন, ডিলিট করলেও ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। সাইবার সেলকে এব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছি। উত্তরবঙ্গের বিধায়করা এনিয়ে আমার কাছে দাবি জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে থেকে এসব চলবে না, প্রয়োজনে গ্রেফতারও করা হবে বলে নির্দেশ দিলেন তিনি। (Suvendu Adhikari)

Continues below advertisement

বুধবার নবান্নের সভাঘর থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন শুভেন্দু। উত্তরবঙ্গের বিধায়কদের পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। জানান, কিছু মানুষ বিশ্ববন্দিত, প্রকৃত দেশপ্রেমিক, ভারতের স্বাধীনতার প্রধান স্থপতি, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করে চলেছেন। রাজ্য সরকার বিষয়টির দিকে নজর রেখেছিল। সেই নিয়ে অভিযোগ এসেছে তাঁর কাছে। উত্তরবঙ্গের বিধায়করা বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। নেতাজী সম্পর্কে অপমানজনক, মিথ্য়া, অপপ্রচারের দুঃসাহস দেখালে, যাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, দাবি জানান সকলে। সেই দাবিকে সমর্থন করে রাজ্যের সরকার। (Netaji Subhas Chandra Bose)

আরও পড়ুন: মাসে মাসে ৩০০০০ টাকা, স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বড় ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর, শুধু এই শর্ত মানতে হবে বিধায়কদের…

Continues below advertisement

এদিন নবান্নের সভাঘর থেকে শুভেন্দু বলেন, "উত্তরবঙ্গ বিধায়করা প্রত্যেকে চান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিক। যেখানে যেখানে অভিযোগ, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় মামলা হবে। ফেসবুকে এবং সোশ্য়াল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির যে সিস্টেম রয়েছে, রাজ্য সরকারের তরফে পদক্ষেপ করার ব্যবস্থা করছি। নির্দিষ্ট ধারায় গ্রেফতারির নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে পুলিশকে। আর যাঁরা দুঃসাহস দেখিয়েছেন, আমি তাঁদের অনুরোধ করব, অনুরোধ ঠিক নয়, পরামর্শ দেব, তাঁরা যে দুঃসাহস দেখিয়েছেন, তা ভাল নয়। এটা পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং পুলিশ ভালভাবে নিচ্ছে না এটাকে। অবিলম্বে ক্ষমা চেয়ে পোস্ট করুন। নিজেদের পোস্ট ডিলিট করুন এখনই। ডিলিট করলেই যে ছাড় পাবেন, তা নয়। নির্দিষ্ট ধারায় পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা হস্তক্ষেপ করব না।"

আরও পড়ুন: টাটা সন্স থেকে পদত্যাগ এন চন্দ্রশেখরনের, বেঁচে নেই রতন টাটা, টালমাটাল অবস্থা সামলানো যাবে তো? বাড়ছে উদ্বেগ

গোটা বিষয়টিতে উত্তরবঙ্গের বিধায়কদের ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, "আমাদের সরকার এবং পুলিশ অবিলম্বে কঠোর এবং কঠিন ব্যবস্থা নেবে। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এসব চলবে না। সরকার এব্যাপারে জিরো টলাব়্যান্স নীতি নিয় চলছে। বরদাস্ত করা হবে না। আমরা নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে সম্মান করি। দিল্লিতে নেতাজীর মূর্তি রয়েছে কর্তব্যপথে। সেটাই বিজেপি-র অবস্থান। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ফেসবুক বা অন্যত্র যে সব পোস্ট হয়েছে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। যে বা যাঁরা ওই সব পোস্ট করেছেন, তাঁদের নির্দিষ্ট ধারায় গ্রেফতার করা হবে। কোনও রাজনৈতিক দল বা জনপ্রতিনিধি হস্তক্ষেপ করবেন না তাতে। সাইবার ক্রাইম, সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম এবং পুলিশের এক্তিয়ারে যা আছে...সোশ্যাল মিডিয়ায় যা আছে, তা ডিজিপি দেখে নেবেন। STF, সাইবার সেল, সিআইডি, আইবি, সবার সাহায্য় নেওয়া হবে। অন্য কোনও সংযোগ আছে কি না, কারা লাইক-শেয়ার করেছেন, কারা কমেন্ট করেছেন, তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক কি না, তা দেখে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে গ্রেফতারও করতে। আইন সবার জন্য সমান। তিনি মন্ত্রী হোন, সাংসদ হোন, বিধায়ক হোন, যে দলেরই হোন, যেই হোন, যে দলেরই হোন, সরকারি কর্মী, পুলিশকর্মী হলেও আইন সমান ভাবে প্রয়োগ করা হবে। "

গত বেশ কিছু দিন ধরেই নেতাজী সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করে আসছেন বিজেপি-র রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ। প্রকাশ্য সভা থেকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, সর্বত্রই নেতাজীকে অপমান করতে শুরু করেন তিনি। তাঁকে বলতে শোনা যায়, "নেতাজীর বা** শক্তি আছে নাকি আজাদ হিন্দ ফৌজ বানানোর? ওগুলো সব ব্রিটিশ সৈনিক। জার্মানরা বন্দি বানিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। দিয়েছিল নেতাজীকে। নেতাজী সেটার অপব্য়বহার করেছেন। আমাদেপ পূর্বপুরুষ আজাদ হিন্দ বাহিনীকে শাস্তি দেওয়া হয়নি...তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল না কেন?"

শুধু তাই নয়, নেতাজীকে 'দেশদ্রোহী' বলেও আক্রমণ করেন অনন্ত। নেতাজী আদৌ ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন, না অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল তাঁর, এমন প্রশ্নও তোলেন। শাসকদলের সাংসদ হয়ে যেভাবে পর পর ওই ধরনের মন্তব্য করছিলেন অনন্ত, তা কি নেতৃত্বের কানে পৌঁছচ্ছে না, তা নিয়ে গোড়া থেকেই প্রশ্ন উঠছিল। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ও সেই নিয়ে মুখ খোলেন একদিন আগে। এমনকি বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য নিয়েও কাটাছেঁড়া শুরু হয়। সেই আবহেই এদিন কড়া বার্তা দিলেন শুভেন্দু। আজ বিধানসভাতেও বিধায়কদের নেতাজীর নামে 'সেবাকেন্দ্র' খোলার পরামর্শ দেন তিনি। তার জন্য অর্থসাহায্য়ের ঘোষণাও করেন।