ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, কলকাতা : শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে একেবারে ঠান্ডা মাথায়, সুপরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছিল বলেই মনে করছে তদন্তকারী দল। ধৃত তিন অভিযুক্তকে জেরা করে পুলিশের হাতে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, পুরো অপারেশনটি বহুদিনের পরিকল্পনার ফল এবং খুনের আগে বিস্তারিত রেকিও চালানো হয়েছিল।
শুভেন্দুর শপথের তিন দিন আগে আপ্তসহায়ক খুন
৯ মে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী ( Suvendu Adhikari )। তার ঠিক তিন দিন আগে, ৬ মে রাতে গুলিতে ঝাঁঝরা করে খুন করা হয় তাঁর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। রাজনৈতিক মহলে এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
বিরাটি থেকে মধ্যমগ্রাম, খুনের আগে দীর্ঘক্ষণ নজরদারি
পুলিশ সূত্রে খবর, বিহারের বক্সার থেকে ধৃত ময়ঙ্ক রাজ মিশ্র নিশান মাইক্রা গাড়িতে করে এ রাজ্যে আসে। খুনের আগে যশোর রোডের বিরাটি মোড়ে গাড়ি থেকে নেমে যায় সে। এরপর গাড়িটি চলে যায় বারাসাতের ১১ নম্বর রেলগেটের সামনে এবং সেখান থেকে ইউ-টার্ন নেয়। তদন্তকারীদের দাবি, রায়পুর ইলেকট্রনিক্স নামে একটি দোকানের সামনে মধ্যমগ্রামের দিকে মুখ করে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল গাড়িটি। ৬ মে বিকেল ৪টা ৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত সেখানে পার্ক করা ছিল নিশান মাইক্রা। এরপর সেটি দোহারিয়ার দিকে রওনা দেয়, যেখানে পরে খুন করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে।
খুনের পর রাতেই শিয়ালদা, তারপর ভিনরাজ্যে পালানো
পুলিশ সূত্রে দাবি, রাত ১০টা ১০ মিনিট নাগাদ অপারেশন শেষ করে শার্প শ্যুটার রাজ সিং, ভিকি মৌর্য এবং তাদের সহযোগী ময়ঙ্ক রাজ মিশ্র শিয়ালদা স্টেশনে পৌঁছয়। সেখান থেকে গভীর রাতে ট্রেনে চেপে উত্তরপ্রদেশের বালিয়া এবং বিহারের বক্সারের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যায় তারা। তদন্তে উঠে এসেছে, ধৃত রাজ সিং এবং ভিকি মৌর্য পেশাদার সুপারি কিলার। তবে যিনি এই দুই আততায়ীকে সুপারি দিয়েছিলেন, তিনি এখনও অধরা।
মূলচক্রী কে? খুঁজছে পুলিশ
তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কেন খুন করা হল চন্দ্রনাথ রথকে? কারা এই সুপারি কিলারদের কাজে লাগাল? গোটা অপারেশনের নেপথ্যে কারা ছিল? ধৃত তিনজনকে দফায় দফায় জেরা করে এই প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, খুব শিগগিরই খুনের নেপথ্যের মূলচক্রীদের পরিচয় সামনে আসতে পারে।
