ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, কলকাতা : শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। তদন্তকারীদের অনুমান, গোটা অপারেশনে জড়িত ছিল অন্তত ৭ থেকে ৮ জন দুষ্কৃতী। শুধু তাই নয়, হামলার আগে নিজেদের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও তৈরি করেছিল অভিযুক্তরা। পুলিশ সূত্রে খবর, এই খুনের নেপথ্যে ছিল সুপরিকল্পিত চক্র। অন্তত ২ জন শার্প শুটার এবং ১ জন ‘টিপার’ বা নজরদারি করা ব্যক্তি ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বারাসাতের ১১ নম্বর রেলগেট এলাকা ঘিরে রহস্য বাড়ছে।
বারাসাতের ১১ নম্বর রেলগেটেই কি লুকিয়ে বড় ক্লু?
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, যে নিসান মাইক্রা গাড়ি দিয়ে চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির রাস্তা আটকানো হয়েছিল, সেটি খুনের আগের পুরো দিন বারাসাতের ১১ নম্বর রেলগেটের কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল। শুধু তাই নয়, এবার সেই একই এলাকার কাছ থেকেই উদ্ধার হয়েছে খুনে ব্যবহৃত দ্বিতীয় বাইকটি। এর আগে প্রথম বাইকটি উদ্ধার করা হয়েছিল এয়ারপোর্টের আড়াই নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকা থেকে।পুলিশের অনুমান, বারাসাতের এই এলাকা থেকেই গোটা অপারেশনের পরিকল্পনা ও চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। হামলার আগে দুষ্কৃতীরা ওই এলাকাকে অস্থায়ী ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছিল বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে চলছিল তথ্য আদানপ্রদান
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামলার আগে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছিল দুষ্কৃতীরা। সেই গ্রুপের মাধ্যমেই চন্দ্রনাথ রথের গতিবিধি, গাড়ির অবস্থান এবং হামলার সময় নিয়ে তথ্য আদানপ্রদান চলছিল বলে পুলিশের অনুমান। ডিজিটাল সূত্র খতিয়ে দেখে কারা সেই গ্রুপে ছিল এবং কোথা থেকে মেসেজ পাঠানো হচ্ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, এই ডিজিটাল যোগাযোগই গোটা অপারেশনের গুরুত্বপূর্ণ ক্লু হয়ে উঠতে পারে।
লাল গাড়ির রহস্যে নতুন ধোঁয়াশা
চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির পিছনে একটি রহস্যজনক লাল গাড়ির উপস্থিতিও এবার তদন্তের কেন্দ্রে এসেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, হামলার পর কয়েকজন দুষ্কৃতী ওই লাল গাড়িতে চেপেই এলাকা ছেড়ে পালায়। সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্য মিলিয়ে সেই গাড়ির গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই গাড়ির মালিকানা এবং তার সঙ্গে খুনিদের যোগ ছিল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
উত্তরপ্রদেশে পুলিশের বিশেষ টিম
তদন্তে নতুন সূত্র খুঁজতে এবার উত্তরপ্রদেশে পৌঁছেছে পুলিশের বিশেষ দল। পুলিশ সূত্রে খবর, যে মাইক্রা গাড়িটি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি বিক্রির জন্য আগে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। সেই বিজ্ঞাপন দেখেই উত্তরপ্রদেশ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি গাড়ি কেনার জন্য যোগাযোগ করেছিল। কারা সেই ব্যক্তিরা, তাঁদের সঙ্গে খুনিদের কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। সেই সূত্র ধরেই উত্তরপ্রদেশে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পেশাদার অপরাধচক্রের ইঙ্গিত
তদন্তকারীদের বক্তব্য, গোটা হামলা অত্যন্ত পেশাদারি কায়দায় করা হয়েছে। রাস্তা আটকে গাড়ি থামানো, নির্দিষ্ট দিক লক্ষ্য করে গুলি চালানো এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এলাকা ছেড়ে পালানো—সব মিলিয়ে এটি প্রশিক্ষিত অপরাধীদের কাজ বলেই মনে করছে পুলিশ। এখন শুধু শ্যুটারদের নয়, পুরো নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করার দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন, 'আমার পাশ দিয়েই ওই খুনি ক্রস করেছিল, তারপর...' শিউরে ওঠা ঘটনা জানালেন প্রত্যক্ষদর্শী
