কলকাতা: চন্দ্রকোণা রোডে তুলকালাম। শুভেনদু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর রাতে সটান পুলিশ বিট হাউসে গিয়ে অবস্থানে বসে পড়েন বিরোধী দলনেতা। দায়ের করেন অভিযোগ। পাল্টা তৃণমূলের অবশ্য় কটাক্ষ, হতাশা থেকে এই আচরণ করছেন শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আজকে এখানে করেছে, ভেবেছে মেরে দেব, গাড়ি পুড়িয়ে দেব, এ পালিয়ে যাবে। পালিয়ে যাওয়ার লোক নই। ক্ষুদিরাম, মাতঙ্গিনী হাজরার দেশের লোক।'
শনিবার সন্ধেয় পুরুলিয়া থেকে জনসভা সেরে ফিরছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। চন্দ্রকোণা রোডের কাছে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন বিজেপি কর্মীরা। কনভয় সেখানে পৌঁছোতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা চালায় তৃণমূল। লাঠি, বাঁশ দিয়ে কনভয়ের গাড়ির উপরও মারা হয় বলে অভিযোগ। দু’পক্ষের স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বিরোধী দলনেতার কথায়, '১০-১২ জন, সামনে ৮-১০ জন পুলিশ কাঠের বাটাম, মোটা বাঁশ, আমার সামনের গাড়িটা আর পরেরটা দু'টো কালো স্করপিওর ওপর দমাদম দমাদম, আমি যেদিকে কাচের দিকে বসছি, সেদিকে দমাদম দমাদম পিটছে। লোকাল পাবলিককে জিজ্ঞেস করুন, পেট্রোল আর কেরোসিনের জার নিয়ে গাড়ির ওপর ছড়িয়ে দেশলাই মারবে।'
রাতে দীর্ঘক্ষণ পুলিশ বিট হাউসে বসে থাকেন শুভেনদু অধিকারী। বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপি কর্মীরা। থানায় অভিযোগও দায়ের করেন বিরোধী দলনেতা। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের হামলাকারীদের বাঁচানোর জন্য জামিনযোগ্য ধারা দিয়েছে পুলিশ।
এ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'FIR করেছি, সেকশন দেয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী ধারা দিতে হবে। আমি বলেছি জার এনেছিল পুড়িয়ে মারার জন্য আমাকে হত্যা করার চেষ্টা হয়েছে। ১০৯ না দিলে নেব না। এরা সবাই তৃণমূলের। পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। ক্রিমিনাল পুলিশমন্ত্রীর লোকেরা তো ক্রিমিনাল হবে।'
৫ ঘণ্টা পর গভীর রাতে থানা থেকে বেরিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিরোধী দলনেতা।