গঙ্গাসাগর : 'বাবরের নাম লিখবেন কেন ?' হুমায়ুন কবীরের 'বাবরি মসজিদের' নামকরণ নিয়ে ফের একবার আপত্তি জানালেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দেন, 'বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাবর-আকবর-হুমায়ুন-শাহজাহান-আকবরের নাম লেখা হবে না।' বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, "দাঙ্গা হুমায়ুন কবীর লাগাচ্ছেন। আমরা তো বলছি, হিন্দু মন্দির বানাবে, মুসলমান মসজিদ বানাবে, শিখ গুরুদোয়ারা বানাবে, খ্রিস্টানরা গির্জা বানাবে। কে আপত্তি করেছে ? জমি থাকলে-টাকা থাকলে করুন। বাবরের নাম লিখবেন কেন ? আপনাদের ঠিক করতে হবে, বাবরের নাম থাকবে না মুছবেন ? হুমায়ুন কবীর বাবরের নামে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শিলান্যাস করছেন। বাধা দেননি মমতা। এক হাজার পুলিশ তাঁকে পাহারা দিয়েছে। বিজেপি যদি আসে, যদি আপনারা আনেন...বাবরের নাম লিখতে দেব না। শুধু বাবর নয়, আকবরের নাম লেখা হবে না, হুমায়ুনের নাম লেখা হবে না, শাহজাহানের নাম লেখা হবে না, ঔরঙ্গজেবের নাম লেখা হবে না। আর বাবরের নাম-নিশান মুছে দেওয়া হবে।"
ভোট এলেই কখনও মন্দিরের উদ্বোধন, কখনও মসজিদের শিলান্য়াস। কোনও নেতা মন্দিরমুখী, কোনও নেত্রী নমাজ পাঠের অনুষ্ঠানে। ভারতীয় রাজনীতির এখন অঙ্গ হয়ে উঠেছে ধর্ম। ধর্ম, জাতপাত, সম্প্রদায় এখন পুরোদস্তুর ঢুকে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও। গত ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্য়াস ঘিরেও ছত্রে ছত্রে উঠে এসেছে সেই রাজনীতি। যার নামকরণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিজেপি। এ প্রসঙ্গে অবশ্য দলীয় ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
সাংবাদিক বৈঠক করে এর আগেও তিনি বলেছিলেন, "ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে আমাদের পার্টির সকলে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। আমিও বলেছি, নামকরণে আমাদের আপত্তি আছে। কিন্তু, এই যে সরকারি মদতে এক হাজার পুলিশ দিয়ে যে উল্লাসটা সংগঠিত করা হল, মোঘল-পাঠান-হানাদারদের নামে...বাবর একজন ধর্ষণকারী ছিলেন, লুঠেরা ছিলেন। তিনি ভারতের কেউ ছিলেন না। তিনি ভারত দখল করতে এসেছিলেন। ভারতের মন্দিরগুলো ভেঙে-গুঁড়িয়ে, আদিবাসীদের ধর্ম পরিবর্তন করতে এসেছিলেন। ভারত থেকে লুঠে নিয়ে ভারতের সোনা-হীরে-মণি-মাণিক্য সব আরবে নিয়ে চলে যেতে এসেছিলেন। তাঁর নামকরণে আমাদের প্রত্যেকের আপত্তি রয়েছে। আমাদের সেই আপত্তি আছে। কিন্তু, যে ধর্মীয় উন্মাদনা, পরোক্ষভাবে-প্রত্যক্ষভাবে পুলিশ-প্রশাসনের মদতে বিনা অনুমতিতে হয়েছে। টাকা সংগ্রহ হয়েছে। এটা একটি বাংলাদেশের মৌলবাদীদের যে আস্ফালন তার প্রভাব সীমান্তবর্তী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদে দেখানো হয়েছে। এটি প্রতীকী কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরি করার কোনও উদ্যোগ নয়। আমরা আবারও বলি, মন্দির-মসজিদ-গির্জা-গুরুদোয়ারা তৈরি করুন। বৈধভাবে করুন। নিজেদের জায়গায় করুন। নিজেদের সম্প্রদায়ের লোকেরা অর্থ জোগাড় করে করুন। কিন্তু, এই যে একটা আস্ফালন...বাবরের নামে করব, কিছু করতে পারবে না...আমরা করব, করে দেখাব। মাইক বাজাব, লক্ষ লোকের জমায়েত করব...অনুমতি নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই...। সরস্বতী পুজো যোগমায়া দেবী কলেজে করতে গেলে হাইকোর্টে যেতে হয় ছাত্রীকে। আমাকে দোলের দাহন করতে গেলে ভবানীপুরে রাতে ৯টার পর গিয়ে গলির মধ্যে করতে হয় হাইকোর্টের অর্ডারে, কলকাতা পুলিশের আপত্তিতে। মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় একচোখ বন্ধ করে ওখানে এগুলোর অনুমতি দিলেন।"