কাঁথি: শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পরিবর্তন যাত্রা। আর সেখান থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যা ও তৃণমূল কংগ্রেসকে ফের নিশানা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তৃণমূলের আমলে রাজ্য ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে বলেও জানালেন তিনি। এদিনের সভা থেকে শুভেন্দু বলেন, ''বাংলাকে ২৫ বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য থেকে শিল্প তাড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্ম যাঁর যাঁর, রক্ষা করার দায়িত্ব তাঁর। বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে। বাংলায় সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন। বদল আনতে হবে, এক হতে হবে। আর জি করকাণ্ডে বিচার পেতে হলে বিজেপিকে আনুন।''
ছত্তিশগড়ে বিজেপি শাসনের ভূয়সি প্রশংসা করে শুভেন্দু আরও বলেন, ''বিজেপি শাসিত ছত্তিশগড়ে ৩১০০ টাকায় ধান কিনেছে, রাজস্থানে ২৫ লক্ষ টাকা চিকিৎসা ফ্রি। বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ২০০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। বিজেপি শাসিত হরিয়ানা ২ লক্ষ ৫৫ হাজার সরকারি শূন্যপদ পূরণ করা হয়েছে। হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ একমাত্র দিতে পারে বিজেপি। মেধা অনুযায়ী চাকরি আমরাই দেব। ২০১১ সালে এসে টাটাকে তাড়িয়েছে, চাকরি চুরি করেছে তৃণমূল সরকার। আর ২ মাস, ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখের পর এই সরকার কোথায় থাকবে দেখে নেব।''
বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০১১-য় রাজ্যে পরিবর্তন এনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন তাঁর সঙ্গেই ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে সেসব এখন অতীত!এবার সেই শুভেন্দু অধিকারীই মুর্শিদাবাদের বড়ঞায় 'পরিবর্তন সংকল্প সভা' করে ২০২৬-এর ভোটে তৃণমূলকে শূন্য করার ডাক দিলেন। পশ্চিমবঙ্গে ভোট মানেই আলোচনার কেন্দ্রে - ভবানীপুর কেন্দ্র। কারণ, সেখানকার বিধায়ক খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কিছুদিন আগেই ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা।শুভেন্দু বলেন, একদম ভয় পাবেন না। আমি শুভেন্দু অধিকারী, বিরোধী দলনেতা আছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি হারিয়েছি। ২৬-এ ভবানীপুরে হারাব। এই জেলাতে তৃণমূল কংগ্রেস রাজনীতিকে ব্য়বসায় পরিণত করেছে। এই জেলাতে তৃণমূল কংগ্রেস সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বীজ বপণ করেছে। পাল্টা শুভেন্দু অধিকারীকেই ভবানীপুরে এক লক্ষ ভোটে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে তৃণমূল।
তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, 'শুভেন্দু অধিকারী কে চ্যালেঞ্জ করছি ক্ষমতা থাকলে ভবানীপুরে দাঁড়ান। এক লাখ ভোটে হারাব। এলেবেলে তেলে কে দাঁড় করিয়ে দিয়ে নিজে কেটে পড়বেন না। ক্ষমতা থাকলে দাঁড়ান বুঝে নেব।