কালীগঞ্জ:  রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই অভয়াকাণ্ডের খাতা খুলেছে বিজেপি সরকার। নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। তিনি আইপিএসকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আর এবার কালীগঞ্জের ছোট্ট তমন্না খুনের ঘটনাতেই বড় পদক্ষেপ করল প্রশাসন। মঙ্গলবারই বিধানসভায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন নদিয়ার কালীগঞ্জের তমন্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন।  মেয়ের ‘বিচার’ চেয়েছিলেন । তার পর কয়েক ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তৎপর হল পুলিশ। গ্রেফতার হলেন দুই অভিযুক্ত। তমন্নার মায়ের কথায়, এতদিন ধরে 'আসামি'গুলো চেখের সামনেই ঘুরছিল। পুলিশ কিচ্ছু করেনি।  ধৃতদের নাম সাবির শেখ এবং জিয়ারুল শেখ। মঙ্গলবার রাতে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে।

Continues below advertisement

কালীগঞ্জ উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে চলাকালীন ছোড়া বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় ছোট্ট তামান্নার। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ১১ জন গ্রেফতার হলেও দীর্ঘদিন অধরা ছিল বাকি ১৩ জন অভিযুক্ত। এর মধ্যেই তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন এবং বিচার চেয়ে আবেদন জানান। তার পরের দিনই আরও দুই অভিযুক্ত গ্রেফতার হওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছে পরিবার।

গ্রেফতারির খবর সামনে আসতেই মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তামান্নার মা। তিনি বলেন, "প্রথমেই আমি আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, আমার কথা শোনার জন্য, আমাকে সময় দেওয়ার জন্য। বাড়ি ফিরে আসতে না আসতেই মুখ্যমন্ত্রী সঠিক কাজটা করেছেন। এতদিন ধরে আমি দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, কিন্তু বিচার পাইনি। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। এবার প্রমাণ হয়ে গেল। দু'জন গ্রেফতার হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি বাকি অপরাধীরাও দ্রুত গ্রেফতার হবে।"         

Continues below advertisement

 মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে বক্তৃতায়  মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অভয়া হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ফের শুরু হয়েছে। তমন্নার খুনিরাও ছাড় পাবে না। তাঁর সরকার এই ধরনের ঘটনায় জিরো টলারেন্স নীতিতে চলবে। এদিনই অধিবেশনের পরে তমন্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকে ছিলেন বাম নেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানও। এর পরই গ্রেফতার হয় ওই দুই জন।

আরও পড়ুন : কলকাতায় ক্লাউডবার্স্ট? নাকি মাইক্রোবার্স্ট? দুইয়ের কী ফারাক?