কৃষ্ণেন্দু অধিকারী ও অর্ণব মুখোপাধ্য়ায়, কলকাতা: বিজেপি বলছে চলে আসুন, আমাকে ব্ল্য়াঙ্ক চেকও দিয়েছে। চাঞ্চল্য়কর দাবি করলেন সৌগত রায়।  প্রবীণ সাংসদের দাবি, আমাদের সবার সঙ্গে কথা বলছে বিজেপি, বলছে, যা চাইব তাই দেবে। এবার এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, উচ্চ বায়ুমণ্ডলীয় ঘূর্ণাবর্ত উত্তর আন্দামান সাগরে প্রবেশের আশঙ্কা, ঘনীভূত হতে পারে নিম্নচাপ, আগামী ২৪ ঘণ্টায় প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস রাজ্যেজুড়ে

Continues below advertisement

রাজনীতিতে সংখ্যা বড় বালাই। সংখ্যা যার দিকে, ক্ষমতার রাশ তার হাতে। তৃণমূলের ভোটে ভরাডুবির পর ২০ জন তৃণমূল সাংসদ হঠাৎ করে বিদ্রোহ করে এনসিপিআই-তে যোগ দেন। এখন তারা বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র শরিক। কীভাবে গোটা বিষয়টা ঘটেছে, তাও খোলসা করেছেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ জগদীশ বাসুনিয়া। NCPI সাংসদ  জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া বলেন ,NCPI এটা আমাকে বিজেপিরা আমাদের NCPI-তে নিয়ে গেছে। আমরা বিজেপিতে যাওয়ার জন্য গেছি। সেটা করছে সবাই, বিজেপির নেতারা। অ্য়ান্টি ডিফেকশন ল' থেকে বাঁচানোর জন্য, যাতে আমাদের ৩ জন সদস্য সরে না যায়, আবু তাহের খান, ইউসূফ পাঠান, খলিলুর রহমান। তার জন্য ওরাই (বিজেপি) করছে। আমরা জানতামও না। আমরা NCPI হইনি, এটা আমাদের কাগজে কলমে করে আগামীতে বিজেপিতে নেওয়া হবে।

 এখন রাজনৈতিক মহলে জল্পনা হল, কীভাবে দলত্য়াগ বিরোধী আইন এড়িয়ে NCPI সাংসদরা সরাসরি বিজেপিতে যাবেন? তার জন্য় কত সংখ্য়া লাগবে? মুর্শিদাবাদের তিন সংখ্য়ালঘু সাংসদ সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে না চাইলে, বাকি তৃণমূল সাংসদ কীভাবে কীভাবে যোগাড় করবেন বিদ্রোহীরা? এই আবহেই চাঞ্চল্য়কর দাবি করেন সৌগত রায়।

এবিপি আনন্দ: বিজেপি কি বাকি সাংসদদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছে?সাংসদ  সৌগত রায়: সবার সাথেই চেষ্টা করছে। আমি কারও নাম বলতে পারব না। যে ক'জন বাকি আছে, সবার সঙ্গেই কথা বলার চেষ্টা করছে। বিজেপির কাছে টাকা আছে ক্ষমতা আছে। ওরা দিল্লিতে ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে, পশ্চিমবাংলায় লোককে ভয় দেখাতে পারে, অত্যাচার করতে পারে। সেই ক্ষমতা ওরা যতক্ষণ পারে ব্যবহার করবে। এবিপি আনন্দ: মানে, আপনাদের তৃণমূলের বাকি যারা আছে সবাইকে?  সাংসদ সৌগত রায়: সবাইকে। 

শিল্পমন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় বলেন,সৌগত রায় তো আরেক জন। কতগুলি দল করেছেন, কী কী করেছেন, তিন মাসের মন্ত্রীসভায় ছিলেন। ..কতরকমের কংগ্রেস করেছেন। উনি মানুষের আবার সমালোচনাও করেন। উনি কখন কী বলবেন, ঠিক নেই। কালকে উনি অন্য কথা বলতে পারেন।' কিন্তু বিজেপি যাই বলুক, সৌগত রায় এখানেই থামেননি। সাংসদ সৌগত রায় বলেন, আমায় করেছিল, আমি তো ওদের বলেই দিয়েছি। আমি যাব না বিজেপিতে নীতিগতভাবে। অ্যাপ্রোচ করতে ওরা কাউকে বাদ রাখছে না। বলছে, চলে আসুন। বিজেপির তো আর কোনও নীতিগত প্রশ্ন নেই। চলে আসুন। এই পাবেন, তাই পাবেন। ওদের লোক আছে ফিট করা। যারা এই কাজটা করে।  ভূপেন্দ্র যাদব আছে, সিএম রমেশ আছে, নিশিকান্ত দুবে আছে। চলে আসুন। যা চাইবেন তাই দেব। ব্ল্যাঙ্ক চেক।' কে কোন খেলা খেলছে, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। চলবে। কিন্তু পতাকার রং নির্বিশেষে, রাজনীতির ক্ষমতা ভোগ করতে গিয়ে, নীতি নৈতিকতার কথা কি আদৌ কোনও দল মনে রাখছে, না কি ক্ষমতাই সব?