পার্থপ্রতিম ঘোষ, তারাপীঠ : তারাপীঠের হোটেল বিদেশিনীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। এই ঘটনায় এবার সাসপেন্ড করা হয়েছে দমকলের স্টেশন অফিসারকে। তারাপীঠের হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের পর একাধিক প্রশ্ন উঠছে। কীভাবে এই হোটেলকে ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট দেওয়া হল সেই প্রশ্নও উঠছে। সোমবার ১৭ অগস্ট তারাপীঠে হোটেল বিদেশিনীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন। আর এই ঘটনায় দমকএল্র স্টেশন অফিসার অভয় চৌধুরীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, তারাপীঠের হোটেলের এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে ৯ জনের মৃত্যুর পর হুঁশ ফিরেছে স্থানীয় প্রশাসনের। তারাপীঠের ১৫টি হোটেল বন্ধের নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়েছিল। তা কার্যকর করতে এবার নোটিস নিয়ে হাজির হয়েছে পুলিশ। এইসব হোটেলগুলিতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক মতো ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। আপাতত ১৫টি হোটেলে তালা ঝোলানোর নির্দেশ সমেত নোটিস নিয়ে ওইসব নির্দিষ্ট হোটেলে হাজির হয়েছে পুলিশ। তারাপীঠের একাধিক হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিল প্রশাসন। সেই নির্দেশ সমেত নিয়ে আজ বুধবার তারাপীঠের হোটেলগুলিতে হাজির হন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশকর্তারা। হোটেল মালিকদের স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়, 'হোটেল আজকের মধ্যে পুরো খালি করে বন্ধ করে দেবেন। আপনাদের যা যা রিকোয়ারমেন্ট আছে সেগুলো ঠিকঠাক করবেন... দেখাবেন কী আছে, না আছে... আপাতত হোটেল বন্ধ রাখবেন।' নোটিস দিয়ে হোটেল মালিকদের বলা হয় সেই নোটিসের কপি রিসিভ করে নিতে।
বাঁকুড়ায় CJP সমর্থকের বাবার মৃত্যু, নিহতের বাড়িতে গেলেন নৌশাদ সিদ্দিকি, কী বললেন ISF বিধায়ক
সঙ্গে করে একগুচ্ছ নোটিস নিয়েই বেরিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা। হোটেলে হোটেলে গিয়ে সেগুলি দেওয়া হচ্ছে। যেসব হোটেলের ফায়ার সার্টিফিকেট নেই, অগ্নি নির্বাপণের সঠিক ব্যবস্থা নেই, ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে হোটেলগুলি রমরমিয়ে চলছিল - এমন ১৫টি হোটেল বন্ধের জন্য ক্লোজার নোটিস দেওয়া হচ্ছে পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে। প্রশাসনের দাবি, এইসব হোটেলগুলিকে এর আগেও অনেকবার নোটিস দেওয়া হয়েছে। তবে তাতে মোটেও কর্ণপাত করেনি হোটেল কর্তৃপক্ষ। তাই এবার হোটেলগুলি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। ক্লোজার নোটিস দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন হোটেলে। আজকের মধ্যেই হোটেল খালি করে হোটেল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, যেসব হোটেলগুলি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে তৃণমূলের জেলা পরিষদের সদস্যের মালিকাধীন হোটেলও রয়েছে। পুরোদমে অ্যাকশনে নেমে প্রশাসন। তারাপীঠের ১৫টি হোটেলের মালিক কিংবা ম্যানেজার, কর্মচারীদের হাতে ক্লোজার নোটিস ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে পুলিশের তরফে।
