কলকাতা: তারাতলায় গোডাউন বিপর্য়য়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬, আহত ১৭। তারাতলার গোডাউন-বিপর্যয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। SSKM হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বাসন্তীর এক বাসিন্দা । কিন্তু শেষ রক্ষা হল না, মৃত্যু হয় খালেক সর্দারের বলে শেষ অবধি পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে। যদিও অন্যদিকে, কিছুটা সুস্থ হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয়েছে উদ্ধার হওয়া ৩জনকে।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, ভূমিকম্প বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলার চরম বিপদে পাশে দাঁড়াল ভারত, শুরু ‘অপারেশন Amistad’

Continues below advertisement

কেউ নতুন কর্মস্থলে প্রথম দিন কাজে গিয়েছিলেন। কেউ একটু বাড়তি রোজগারের আশায়। কিন্তু কে জানত, জীবনের শেষ দিনটা হবে ওই কাজের জায়গাতেই। তারাতলা বিপর্যয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, অন্ধকার নেমে এসেছে এক একটা পরিবারে। বাড়ির একমাত্র রোজগেরে মানুষটা আজ আর নেই। এখন কে তাহলে সংসার চালাবে? কে ভাত জোটাবে? কে মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করবে? কিচ্ছু জানে না পাপ্পু রজকের বাড়ির লোকজন। তারাতলার গোডাউন বিপর্যয়ে মৃত্যু হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলের বাসিন্দা পাপ্পু রজকের। (৩৮) তারপর অন্ধকার নেমে এসেছে তাঁর বাড়িটায়। 

মৃত পাপ্পু রজকের স্ত্রী বলেন, রাজমিস্ত্রির কাজ করত। কিন্তু মেয়ের ভীষণ স্বপ্ন ছিল। বলত, আমি দিনরাত কাজ করে তোকে কিছু করব। কিন্তু এখন ওর স্বপ্ন কে পূরণ করবে? আমরা দিন আনি, দিন খাই। আমাদের তো ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স নেই, যে রেখে যাবে। 'তারাতলার গোডাউনে প্রথম দিনে কাজ করতে গিয়েই, মৃত্যু হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের বাসিন্দা স্বপন মণ্ডলের। (৫৩)। মৃত স্বপন মণ্ডলের স্ত্রী লক্ষ্মী মণ্ডল বলেন, প্রথম দিনই কাজে গিয়েছিল। তারপরে সকালবেলা কথা হয়েছে ওঁর সঙ্গে আমার। সাড়ে পাঁচটার পর থেকে ওঁকে ফোনে পাচ্ছি না। সাড়ে ৮টা অবধি ফোন করেছি।  সর্দার একবার (ফোন) ধরল, ধরে বলল যে আমাদের এখানে বিশাল একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে।  আমাদের অবস্থা ভাল না। বলে উনি আর কথা বলতে পারেননি। 'শুক্রবার জগদ্দলে পাপ্পু রজক ও শ্যামনগরে স্বপন মণ্ডলের বাড়িতে যান এলাকার বিজেপি বিধায়ক রাজেশ কুমার।  জগদ্দল বিজেপি বিধায়ক রাজেশ কুমার বলেন, এদের পরিবারে যে ক্ষতি হয়েছে, সেটা কেউ পূরণ করতে পারবে না। আমরা স্বপনবাবুকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারব না। আমি পরিবারের কাছে এসে দাঁড়ালাম। আমি আমাদের লোকপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীজিকে আবেদন করব, যেন উনি পরিবারের মধ্যে কোনও একজন লোককে এরকম কিছু ব্যবস্থা করে, যাতে ওদের পরিবার ঠিক মতো চলতে পারে।