কলকাতা: প্রায় দু'দশক পর তসলিমা নাসরিনের (Taslima Nasrin) কলকাতায় ফেরা। রবীন্দ্রসদনের অনুষ্ঠানে কবি জয় গোস্বামী (Joy Goswami) মঞ্চের দিকে এগোতেই উত্তেজনা। সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কারজয়ী লেখক মঞ্চের দিকে এগোতেই দর্শকদের একাংশ হইচই শুরু করেন। মঞ্চের দিকে এগিয়েও, হইচইয়ের জেরে মঞ্চে না উঠেই দর্শকাসনে ফিরে যান কবি। ঘটনার জেরে মঞ্চে বলতে গিয়ে থমকে যান তসলিমা নাসরিন। দর্শকদের শান্ত হওয়ার আবেদন জানান লেখিকা। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে পুনরায় বক্তব্য শুরু করেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা।

Continues below advertisement

এই ঘটনার নিন্দা করে যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজের অধ্যক্ষ পঙ্কজ রায় বলেন, 'আমি মনে করি অতিথি দেব ভব। তাঁর অভিলাষ, অন্তত এক লাইন বলতে দিলে কোনও মহাভারত অশুদ্ধ হত না।' তবে বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের মত খানিকটা ভিন্ন। তাঁর মতে, 'যাঁরা আজ তসলিমার কথা শুনতে এসেছেন, তাঁরা তো বিগত ১৯ বছর ধরে তসলিমার কথা শুনতে না পাওয়ার যন্ত্রণা তাঁদেরকে পুড়িয়েছে, জ্বলিয়েছে, কষ্ট দিয়েছে। তাই সেই সরকারের আমলের তোষণকারী কিছু মানুষকে হয়তো মঞ্চে মানতে চাইছিল না। কারণ যাঁরা তসলিমাকে কথা বলতে দেননি, তাঁদেরই একজন কেন মঞ্চে আসবেন! তাই হয়তো প্রতিবাদ করেছেন। এ ভালবাসারই আরেকটা নামান্তর বলা যায়।' 

অনেকের মতো হয়তো এই ঘটনার জেরেই জয় গোস্বামীর দর্শকদের মন, আজকের বাংলার ছবিটা বুঝতে পারলেন। 'এটা আগে থেকে তো নির্দিষ্ট কিছু ছিল না। তসলিমা হঠাৎ ডেকেছেন। আমাদের তাতে কোনও ভূমিকা ছিল না। দর্শকরা তাঁকে (জয় গোস্বামী) কতটা অপছন্দ করে, সেটা দেখা গেল।  এটা কারুর নিয়ন্ত্রণের বাইরের একটি ঘটনা। আমার ধারণা এতেই হয়তো জয় গোস্বামী জানলেন যে আজকের বাংলা কীরকম।'

Continues below advertisement

শনিবার রবীন্দ্র সদনে তসলিমাকে সম্বর্ধনা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী কে বলতে শোনা যায়, "বাংলায় সকলের কথা বলার অধিকার রয়েছে। যতবার ইচ্ছা বাংলায় আসবেন। নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশমন্ত্রীর। বন্ধনমুক্ত বাংলায় সকলকে স্বাগত, ধমক চমক এখন অতীত। পশ্চিমবঙ্গে যে ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, তা নিশ্চিত ভাবে আপনার অভিজ্ঞতায় আপনি দেখেছেন। একবার নয়, যখনই মনবে করবেন, বার বার আসবেন। সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।'

জবাবে তসলিমাকে বলতে শোনা যায়, 'মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও আমাকে সম্বর্ধনা দিয়েছেন। তাঁর এই উদারতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এ আসলে আমার জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল। আমি বিস্মিত, মুগ্ধ, অভিভূত।'