কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা: বুধবার বিকেলে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে গিয়েছিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। দিলীপ ঘোষের দিঘায় জগন্নাথ দর্শনের পর কার্যত ঝড় উঠেছে বিজেপির অন্দরে। এবার দিলীপ ঘোষকে আক্রমণ করলেন, রাজ্য বিজেপির আরেক প্রাক্তন সভাপতি তথাগত রায়। 

বিজেপির অস্বস্তি বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া। বুধবার বিকেলে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে পৌঁছে যান বিজেপির সঙ্গে স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার। দিলীপ ঘোষের দিঘায় জগন্নাথ দর্শনের পর কার্যত ঝড় উঠেছে বিজেপির অন্দরে। একের পর এক বিজেপি নেতা কটাক্ষ করেছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতিকে। এবার সেই তালিকায় যোগ হল আরও একটি নাম। রাজ্য বিজেপির আরেক প্রাক্তন সভাপতি তথাগত রায়। তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের যে দুটো দল, একেবারে মুখোমুখি লড়াই করে। একটা দল পুরীর মন্দিরের নকলে একটা মন্দির তৈরি করেছে। অন্য দলটা সেটা পুরোপুরি বিরোধ করছে, সেখানে একজন প্রাক্তন সভাপতি সেখানে চলে গেলেন! এর মধ্যে কোনও রাজনীতি নেই? এটা পশ্চিমবঙ্গে কেউ বিশ্বাস করবে!'' 

গতকাল দিলীপ ঘোষদের আপ্য়ায়নে গেটে অপেক্ষায় ছিলেন বিদ্য়ুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। দিলীপ ঘোষকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন অরূপ বিশ্বাস। প্রণাম করে ঘুরে দেখেন মন্দির। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষ। যা নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথাগত রায়। এদিন তিনি বলেন, "প্রয়াত সিপিএম নেতা অনিল বিশ্বাস বলেছিলেন রাজনীতির বাইরে কিছু হয় না। তৃণমূলের নেত্রী হচ্ছেন সিপিএমের মেধাবী ছাত্রী। অতএব ওখানে যেটা হয়, সেখানে রাজনীতি নয় এটা বলাটা ভণ্ডামি হবে। উনি ছিলেন প্রাক্তন সভাপতি। এখন সম্ভবত বর্তমান সভাপতি হতে চাইছেন। সেটা পারছেন না। উনি এবার পার্টি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। সেটা প্রথম পাঁয়তারাটা কষছেন। নাহলে মমতার সঙ্গে ওত কথা বলার কী দরকার। উনি যদি জগন্নাথ দেবের প্রতি ভক্তিতে গিয়ে থাকেন...নতুন বিয়েতে তো একসময় আমাদেরও হয়েছিল; এই সময় মাথাটা একটু ঘুরে যায়। সেই রকম একটা পরিস্থিতিতে পড়ে আহ্লাদের চোটে যান... মন্দিরে গেলে খারাপ ছিল না। মমতার সঙ্গে আলাপচারিতাটা রাজনীতি ছাড়া কিছুই নয়। এই রাজনীতির শেষ হচ্ছে ওঁর তৃণমূলে গিয়ে যোগ দেওয়া।