কলকাতা: কাল সকালে ২ শিক্ষক নেতাকে থানায় যাওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্য সরকারের আশ্বাসের ভিত্তিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, '২জনের বিরুদ্ধে আপাতত কোনও কড়া পদক্ষেপ নেবে না পুলিশ।' ২ শিক্ষক নেতা (Teachers Protest) ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল, সুদীপ কোনারকে থানায় যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল সকাল ১০টায় তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে দেখা করতে হবে। পাশাপাশি আন্দোলনকারী শিক্ষকদের অবস্থান নিয়ে প্রাথমিকভাবে একটি প্রস্তাবও দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
গত বৃহস্পতিবার, বিকাশভবনের সামনে অবস্থানরত চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের লাঠিপেটা করে, গলাধাক্কা দিয়ে সরায় পুলিশ। পুলিশের মারে রক্তাক্ত হন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা। শুধু শিক্ষকদের লাঠিপেটা আর গলাধাক্কা দেওয়াই নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাও রুজু করেছে পুলিশ। বিকাশ ভবনের গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে বিক্ষোভ দেখানোর ঘটনায়, আন্দোলনকারী চাকরিহারা শুক্রবার জামিন অযোগ্য-সহ ১৫টি ধারায় মামলা রুজু করে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। সরকারি কাজে বাধা, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস, পুলিশকে মারধর, সরকারি কর্মচারীদের আটকে রাখা, আক্রমণ চালানো, এমন একাধিক ধারায় বিধাননগর উত্তর থানায় মামলা রুজু করা হয়। ১৭ জন চাকরিহারা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে বিধাননগর কমিশনারেট। গত সোমবার ও বুধবার, বিধাননগর উত্তর থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয় বেশ কিছু চাকরিহারা আন্দোলনকারীকে। নোটিসে এও উল্লেখ করা হয়, হাজিরা না দিলে গ্রেফতার পর্যন্ত করা হতে পারে। যদিও এরপর চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তভার গিয়েছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে।
এদিনের শুনানিতে দুই শিক্ষক নেতার আইনজীবী প্রশ্ন করেন, আন্দোলনস্থলে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষক ছিলেন, কেন তার মধ্যে বেছে বেছে তাঁদেরই ডেকে পাঠানো হল? পাল্টা রাজ্য সরকারের আইনজীবী বলেন, আন্দোলনের নামে যে কর্মকাণ্ড শিক্ষকরা করেছেন তাতে তাঁরা কি আদৌ কোনও শিক্ষকের মতো আচরণ করেছেন। এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, শিক্ষকদেরও মাথায় রাখতে হবে যে তাঁরা শিক্ষক। পাশাপাশি এদিন কলকাতা হাইকোর্টের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, বিকাশ ভবনের সামনে আন্দোলন না করে সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা অবস্থান করতে পারেন। বায়ো টয়লেট, পানীয় জলের ব্যবস্থা করবে রাজ্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৫০ থেকে ১০০জন সেন্ট্রাল পার্কে থাকুন, সরকারি কর্মী যেন আহত না হন।