কলকাতা: আন্দোলন করতে গিয়ে রক্তাক্ত শিক্ষকরা (Teachers Protest)। আর সেই মাষ্টারমশাই, দিদিমণিদের পাশে এবার পডুয়ারা। বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান মঞ্চে প্রতীকী ক্লাস হল। যা নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছে রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন।
রিপোর্ট তলব কমিশনের: চাকরি ফেরত চেয়ে জুটেছে পুলিশের মার। ক্লাসরুমের বদলে রাস্তায় বসে দিন কাটছে। খোলা আকাশের নীচে কাটছে রাত। ঝড়-বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে আশ্রয় নিতে হচ্ছে মেট্রো স্টেশনের নীচে। তারপরও হকের চাকরির দাবিতে রাস্তা ছাড়তে নারাজ চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মীরা। আর এরই মধ্যে রবিবার সকালে বিকাশ ভবনের সামনে দেখা গেল এই ছবি। দুর্নীতি তাঁদের জীবনটা এমনভাবে ধুলিসাৎ করে দিয়েছে যে, ক্লাসে চক-ডাস্টারের বদলে এবার প্রতীকি ক্লাসে রাস্তায় দেখা গেল চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। শনিবার আন্দোলনস্থলেই প্রতীকী ক্লাস নেন চাকরিহারারা। সেখানে উপস্থিত ছিল কয়েকজন স্কুল পড়ুয়া। আর তাদের উপস্থিতি নিয়ে, রিপোর্ট তলব করল রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন। জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগে বিধাননগর কমিশনারেটের কাছে রিপোর্ট চাইল রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন। ৩ দিনের মধ্যে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।
পুলিশের মারে রক্তাক্ত শিক্ষকরা। সেই মার খাওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধেই মামলা করল পুলিশ। ২১ মে, বুধবার বিধাননগর উত্তর থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিসে উল্লেখ, হাজিরা না দিলে গ্রেফতার পর্যন্ত করা হতে পারে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা, হুমকির অভিযোগে মামলায় তলব করা হয়েছে চাকরিহারাদের। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের মারধরের অভিযোগেও মামলা হয়েছে চাকরিহারাদের বিরুদ্ধে। ১৬ মে, চাকরিহারাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারা-সহ ১৫টি ধারায় মামলা রুজু করেছে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে ১৫ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, চাকরিহারা শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডল জানিয়েছেন, নাম ধরে ধরে নোটিস পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৫ জনের কাছে নোটিস এসেছে। আইনজীবীদের পরামর্শ মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ, জানিয়েছেন চাকরিহারারা। তবে গ্রেফতারির হুঁশিয়ারিতেও ভয় পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এদিকে সুর চড়িয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করেন কুণাল ঘোষ। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বলেন, "ছবিটা দেখেছেন, একটা ছেলে বারবার ঘুরে ঘুরে গিয়ে হাত-পা ছুড়ে ক্য়ামেরার সামনে শুয়ে পড়ছে। একাধিক চ্য়ানেলের ক্য়ামেরা ছিল,যে জায়গায় ক্য়ামেরা যাচ্ছে প্রথম কথা 'ক্য়াম লুক'।''