কমলকৃষ্ণ দে, গুসকরা: বেজায় শীত পড়েছে। কয়েকটা দিন তাপমাত্রা সামান্য উর্ধ্বমুখী থাকলেও, আজ থেকে ফের নিম্নমুখী তাপমাত্রা! পৌষ সংক্রান্তিতেও এবার বজায় থাকবে শীতের স্পেল, জেলায় তাপমাত্রা নামতে পারে ৭ ডিগ্রি পর্যন্ত! ঠাণ্ডায় যখন কাঁপছে গোটা বঙ্গ, তখন টাকাপয়সা, সোনাদানার আগেও বোধহয় প্রয়োজন কম্বল! অন্তত সদ্য ঘটে যাওয়া পূর্ব বর্ধমান জেলার,গুসকরা পৌরসভা এলাকার ঘটনা দেখে তো সেটাই ঠাওর হয়। সন্ধে রাতে গৃহস্থের বাড়িতে চুরি! শুধু টাকাপয়সা বা সোনাদানাই নয়, আলমারি ভেঙে কম্বল আর শাড়ি নিয়ে পালাল চোর!

Continues below advertisement

ঘটনাটি ঘটেছে গুসকরা পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আলুটিয়া সৎসঙ্গ মন্দির সংলগ্ন এলাকায়। পোস্ট অফিসের কর্মী রাণা বিশ্বাসের বাড়িতে এই চুরির ঘটনা ঘটে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রাণা বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী কয়েকদিন আগে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার তাঁদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। শনিবার বিকেলে রানার মা সীমা বিশ্বাস বাড়িতে তালা দিয়ে গুসকরা এলাকারই শান্তিপুরে নিজের বাপের বাড়িতে বেড়াতে যান। বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে, চোর বা চোরের দল বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে। দুটি ঘরের দুটি আলমারি ভেঙে সেখান থেকে স্বর্ণালঙ্কার সহ নগদ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। তবে এখানেই শেষ নয়, পরিবারের দাবি, শীতের সন্ধ্যায় চোরেরা ঘরের কম্বল পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছে! ফলে গোটা ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি চর্চাও শুরু হয়েছে।

ঘটনার পর বাড়িতে ফিরে ভাঙা দরজা ও লণ্ডভণ্ড ঘর দেখে হতবাক হয়ে যান বাড়ির সদস্য সীমা বিশ্বাস। তিনি জানান, এই চুরির ঘটনায় তাঁদের প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। ভর সন্ধেবেলা, এই ধরনের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এর সঙ্গে, কম্বল চুরির মতো ঘটনা জন্ম দিয়েছে কৌতুহলেরও। স্বর্ণালঙ্কার ও নগদের পাশাপাশি বেশ কিছু কম্বল ও খোয়া গিয়েছে গৃহস্থের। পাশাপাশি, গোটা ঘর লণ্ডভণ্ড করা হয়েছে। ভাঙা হয়েছে একাধিক আলমারি। সোনা ও টাকা পয়সার পাশাপাশি বেশ কিছু দামি শাড়ি ও চুরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Continues below advertisement

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযুক্তকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে গোটা ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এলাকাবাসী বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করছেন।