কলকাতা : আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, '...নোটটা হৃদয়বিদারক। এতদিন... ছাত্র অবস্থা থেকে রাজনীতি করেন, তিনি বলছেন রাজনীতিতে আসা ভুল হয়েছিল। গত বেশ কয়েকমাস ধরে বিধানসভায় বা পার্টির মিটিংয়ে যখন ওনার সঙ্গে দেখা হয়েছে, নানা বিষয়ে আশিসদার যে আক্ষেপ, তার সাক্ষী আমরা অনেকেই রয়েছি। গত ১৫ বছরে বাংলা জুড়ে যে অর্গানাইজড লুঠ এবং লিগালাইজড ব্লান্ডার হয়েছে, তার কুশীলব তো হাতেগোনা লোক। কিন্তু তার দায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মী থেকে সবাইকে নিতে হচ্ছে। যাঁরা কোনও কিছুর সঙ্গে যুক্ত নন, যারা এই অর্থনৈতিক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁরাও বাদ পড়ছেন না। এই অর্গানাইজড লুঠ এবং লিগালাইজড ক্রাইম যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে রাজ্যের জনমানসে, আমরা যারা তৃণমূল কংগ্রেস করি। আমরা কেউ তার দায় এড়াতে পারছি না এবং একটা মানসিক চাপ প্রত্যেকের উপর সাংঘাতিক ভাবে পড়ছে।'
'প্রচণ্ড দুঃখ... এটা কী জন্য হল, বুঝতে পারছি না', আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে বলছেন অনুব্রত
তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে হতবাক সকলেই। কেন এমনটা ঘটল, কী কারণে এমন হল, বুঝে উঠতে পারছেন না কেউই। শোকস্তব্ধ তাঁর দলের নেতা-কর্মী-সহ বিরোধী নেতা-নেত্রীরাও। রামপুরহাটের ৫ বারের বিধায়ক ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল আমলে ডেপুটি স্পিকার পদেও আসীন হয়েছিলেন তিনি। বীরভূমে তৃণমূলের সংগঠন সামলানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এমন জনপ্রিয় নেতার এ হেন মর্মান্তিক পরিণতিতে ভেঙে পড়েছেন এলাকাবাসীও।
বাবা-ছেলের গাড়ি আটকে এলোপাথাড়ি কোপ, পর পর গুলি, চোখের নিমেষে শেষ কংগ্রেস নেতা ও তাঁর ছেলে
রামপুরহাটের পাঁচ বারের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল আমলে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার পদও পান তিনি। তৃণমূল আমলের শেষ দিন পর্যন্ত বীরভূম জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্য়ান ছিলেন তিনি। অনুব্রত মণ্ডলের জেলবন্দি সময়ে, বীরভূমে তাঁর হাত ধরেই তৃণমূলের সংগঠন দাঁড়িয়ে ছিল। ছাব্বিশের নির্বাচনে ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২৪ হাজার ২৩৩ ভোটে পরাজিত করেন ধ্রুব সাহা। বাড়ি সংলগ্ন যে পার্টি অফিসে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেহ উদ্ধার হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরেও এই পার্টি অফিসেই বসতেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে পালাবদলের পর জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্য়ানের পদ ছেড়ে দেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
