কৃষ্ণেন্দু অধিকারী , কলকাতা :  বুধবারই 'কালীঘাট তৃণমূলে'র অস্বস্তি বাড়িয়েছিলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। নিজেকে 'কোষাধ্যক্ষ' দাবি করে তৃণমূলের অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ করার জন্য চিঠি দেন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে।  ২ দিন ঘুরতে না ঘুরতেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অ্যাকাউন্ট বিতর্কে নতুন মোড় এল।  এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ  ১০ জন তৃণমূল বিধায়ক দলের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন নিয়ে তদন্তের দাবি উঠল। বিধায়কদের পক্ষ থেকে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হল। অভিযোগপত্রে যে তিনটি অ্যাকাউন্ট নিয়ে অরূপ বিশ্বাস চিঠি লিখেছিলেন, সেগুলির লেনদেনই সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করেন। ওই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে বেআইনি বা অস্বচ্ছ উৎসের টাকা প্রবেশ করে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

Continues below advertisement

অভিযোগকারীদের দাবি, ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে প্রভাব খাটিয়ে অসাধু আর্থিক লেনদেন, অর্থ আত্মসাৎ এবং বেআইনিভাবে অর্থ সংগ্রহের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত কিছু অর্থ রাখা হত । তাঁদের  আশঙ্কা ,  ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং অনলাইন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা ব্যবহার করে ওই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তার উৎস গোপন করার চেষ্টাও করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও অর্থের প্রকৃত উৎস, এর সঙ্গে জড়িত সমস্ত ব্যক্তির পরিচয় এবং সম্পূর্ণ লেনদেনের শৃঙ্খল সম্পর্কে তাঁদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। সাইবার ক্রাইম থানায় তাঁরা জানান, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ নষ্ট, গোপন বা বিকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঋতব্রতপন্থী বলে পরিচিত ১০ জন তৃণমূল বিধায়ক পুলিশের কাছে দ্রুত তদন্ত শুরু করার আর্জি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে এবং যাবতীয় জল্পনারও অবসান ঘটবে। 

Continues below advertisement

এর আগে মেসিকাণ্ডে দলকে তীব্র অস্বস্তিতে ফেলেছিলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস । তিনবার হাজিরা এড়ানোর পর অবশেষে বৃহস্পতিবার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেন তিনি। তার আগে HDFC ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় একটি চিঠি লেখেন অরূপ বিশ্বাস। চিঠিটি ব্যাঙ্ক রিসিভ করে  ১৬ তারিখ। তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ পরিচয় দিয়ে চিঠিতে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য আবেদন জানান অরূপ বিশ্বাস । তাতে তিনি লেখেন, ' আমি অরূপ বিশ্বাস, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে, তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটি গুরুতর বিবাদের দিকে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। বর্তমানে বিদ্রোহীদের গোষ্ঠী নিজেদের AITC-র বৈধ প্রতিনিধি ও পদাধিকারী বলে দাবি করছে। এর ফলে AITC-র নামে ব্যাঙ্ক অ্য়াকাউন্ট পরিচালনার অধিকার কার, তা নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংগঠনের তহবিল সুরক্ষিত রাখতে এবং অনুমোদনহীন ব্য়ক্তিদের লেনদেন আটকাতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে অনুরোধ করছি, যাতে এই বিবাদের নিষ্পত্তি না হওয়া অবধি এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ নির্দেশ না দেওয়া অবধি, আপনার ব্য়াঙ্কের শাখায় থাকা অ্য়াকাউন্ট থেকে টাকা তোলা না যায় এবং অপারেশনাল ম্য়ান্ডেটের ক্ষেত্রে কোনও রদবদল না করা হয়। '  এই চিঠির কথা প্রকাশ্যে আসতেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ  ১০ জন তৃণমূল বিধায়ক বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায়। এবার এই জোড়া  চিঠির জের কতদূর পৌঁছায়, সেটাই দেখার।  Source : ABP Marathi