আবির দত্ত, কলকাতা : আগাম জামিনের আবেদন জানালেন বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। পঞ্চসায়রে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় আলিপুর কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। বিজেপি কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুরের মামলায় আত্মসমর্পণ করেন অনন্যা।
বিস্তারিত...
আলিপুর পুলিশ কোর্টে আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা যাচ্ছে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পরে পঞ্চসায়র থানায় বেশ কয়েকটি অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগ ছিল, বিজেপি কর্মীর বাড়ির ভাঙচুরের ঘটনা। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আগাম জামিনের আবেদন জানাতে আলিপুর আদালতে যান তিনি।
অভিযোগ, মূলত তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ঘটনা ঘটিয়েছে। আরও অভিযোগ ওঠে, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। এনিয়ে বিজেপি কর্মীরা যে অভিযোগ করেন, তাতেই আগাম জামিনের আবেদন জানাতে আত্মসমর্পণ করেন অনন্যা।
এদিকে তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওয়ার্ড অফিস ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে সম্প্রতি। বিজেপি দাবি করেছে, ওই অফিসে মিলেছে কলকাতা পুরসভায় নিয়োগের তালিকা। কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছে ত্রাণের প্রচুর জিনিসও। ওই ওয়ার্ড অফিসের চাবি তাঁর কাছে থাকে না বলে দাবি করেছেন কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কলকাতা পুরসভাতেও কি হয়েছে নিয়োগ দুর্নীতি ? যোগ্যদের বদলে তালিকা তৈরি করে চাকরি দেওয়া হয়েছে তৃণমূল-ঘনিষ্ঠদের ? এমনই জল্পনা উস্কে দিয়েছেন মুকুন্দপুরের বিজেপি কর্মীদের একাংশ। বিজেপির দাবি, কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল অফিস থেকে মিলেছে পুরসভায় নিয়োগের খাতাভর্তি তালিকা। মুকুন্দপুরের এক বিজেপি কর্মী বলেন, "আমরা এখানে পেয়েছি অনন্যা ব্যানার্জির নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় মিটিং হত। সেই মিটিংয়ে একটা তালিকা তৈরি হত যে কারা কারা কাজ পাবে এলাকায়। এখানে যে SWM বিভাগ আর হেলথ ডিপার্টমেন্ট পার্টির ছেলেদের ঢুকিয়েছে সম্পূর্ণ তালিকা এখানে আছে।" যদিও অনন্যা বলেছেন, "ওটা কলকাতা কর্পোরেশনের অফিস। ৮ জুনের পর থেকে আমি যাইনি। কর্পোরেশনের অফিসে ফাইলপত্র থাকবে কাগজপত্র থাকবে সেটা স্বাভাবিক। চাবিটা আমাদের কাছে নেই, আমাদের কাছে ছিলও না। সুতরাং যাঁরা গেছে তাঁরা কার থেকে নিয়েছে, কী করেছে, কর্পোরেশনকে যোগাযোগ করতে হবে।"
কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের এই অফিস যেন খাজানা। কোথাও পড়ে রয়েছে পেটি ভর্তি শাড়ি থেকে ত্রিপল। জমিয়ে রাখা হয়েছে সরকারি টাকায় কেনা আলো থেকে পাখা। এমনকী মিলেছে বহু দলিলও।
