সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : গ্রেফতার দেবরাজ, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘনিষ্ঠদের তলব পুলিশের। দেবরাজ ঘনিষ্ঠ ৬ প্রাক্তন কাউন্সিলর ও এক ছায়াসঙ্গীকে নোটিস। আজই ৭ জনকে নোটিস দিয়ে হাজিরার নির্দেশ তদন্তকারী SIT-র। বিধাননগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর বিনু মণ্ডলকে নোটিস। নোটিস দেওয়া হল ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মণীশ মুখোপাধ্যায়কে। হাজিরা দিতে নোটিস বিধাননগরের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর গোপাল বাগুইকে। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তীকেও তলব। প্রাক্তন কাউন্সিলর মাইকেল নস্করকেও ডেকে পাঠাল পুলিশ। হাজিরার জন্য নোটিস ধরানো হয়েছে দেবরাজের ছায়াসঙ্গী রতন মৃধাকে। আজই ৬ জনকে বাগুইআটি থানায় হাজিরা দিতে নোটিস পুলিশের।
পুলিশের দাবি, দেবরাজের তোলাবাজির নেটওয়ার্কে মধ্যস্থতাকারী ছিলেন বিনু মণ্ডল, মণীশ মুখোপাধ্যায় ও গোপাল বাগুই। পুলিশ সূত্রে দাবি, কোথাও প্রোমোটিং বা প্রজেক্ট হলে টাকা দাবি করা হত। টাকা না দিলে প্রজেক্টের কোনও খামতি বের করা হত পুরসভা থেকে। পুরসভার নোটিস ধরিয়ে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হত। প্রকল্পের কাজ বন্ধের পরও টাকা না দিলে মারধর চলত। টাকা দিলে পুরসভার নোটিসও উঠে যেত। হাজিরার জন্য নোটিস ধরানো হয়েছে দেবরাজের ছায়াসঙ্গী রতন মৃধাকে। পুলিশ সূত্রে দাবি, দেবরাজের যাবতীয় কাজকর্ম নেপথ্য থেকে পরিচালনা করতেন রতন মৃধা।
গ্রেফতার দেবরাজ চক্রবর্তী। এবার তদন্তের কেন্দ্রে রহস্যময় সংস্থা 'ডি সি গ্লোবাল'। এই কোম্পানির আড়ালে কি লুকিয়ে চলত কুকীর্তির কারবার? পুলিশের দাবি, দুর্নীতির কালো টাকা বাজারে বিনিয়োগ করে সাদা করতেই কী খোলা হয়েছিল 'ডি সি গ্লোবাল'নামে সংস্থাটি? জবাব খুঁজছে দেবরাজকাণ্ডে গঠিত বিধাননগর কমিশনারেটের ৮ সদস্যের SIT. তদন্তকারীদের নজরে দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন। পুলিশের দাবি, কখনও দেবরাজ-অদিতির ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে, আবার কখনও 'ডিসি গ্লোবাল' সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের টাকা পাঠানো হয়েছে।
ঝাড়খণ্ডে একাধিক আর্থিক লেনদেনের সূত্রও মিলেছে। ট্রাভেলস সংস্থায় টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে বলেও মনে অনুমান তদন্তকারীদের। পুলিশের দাবি, দেবরাজ চক্রবর্তীর সূত্রে হদিশ মেলা 'ডি সি গ্লোবাল' সংস্থাটি ২০১৫ সালে তৈরি হলেও, কোম্পানির টার্নওভারের বিষয়ে কোনও তথ্য মেলেনি। মাত্র ১ লক্ষ টাকা মূলধন নিয়ে শুরু হয়েছিল এই ইনফ্রাস্ট্রাকচার সংস্থা। পুলিশের দাবি, দেবরাজ-অদিতির বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত ২টি মোবাইল ফোন ঘেঁটে দেখা গেছে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং কল হিস্ট্রি ডিলিট করা হয়েছে। সেই ডিলিট হওয়া তথ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য় পাঠানো হচ্ছে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ।
