কলকাতা:বিধানসভা নির্বাচনের এক মাসের মধ্যেই ভেঙে চুরমার তৃণমূল। বিদ্রোহী বিধায়কদের কাছে জোর ধাক্কা খেয়ে সব কমিটি ভেঙে দিল তারা। ভেঙে দেওয়া হল দলের তৃণমূল, যুব তৃণমূল কংগ্রেস, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ, মহিলা কমিটিও। জানানো হয়েছে, কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠন করা হবে। সোশ্য়াল মি়ডিয়ায় সেই নিয়ে পোস্ট করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। নতুন তৃণমূল গঠনের প্রক্রিয়া হিসেবেই বিষয়টিকে দেখছেন বিশ্লেষকরা। (TMC Dissolves All Committees)

Continues below advertisement

বুধবার মাইক্রোব্লগিং সাইট X-এ তৃণমূলের তরফে সব কমিটি ভেঙে দেওয়ার কথা জানানো হয়। লেখা হয়, 'সব দিক বিবেচনা করে, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সব কমিটি এবং শাখা সংগঠন ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এই মুহূর্ত থেকে সেগুলি অবলুপ্ত হলে ধরা হবে। দলের প্রতিটি স্তরে আত্মবিশ্লেষণ, কর্মপদ্ধতি পর্যালোচনা করে দেখা হবে, কাজের মূল্যায়ন হবে।  সেই মতো নতুন করে মূল দল এবং শাখা সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন করবে দল এবং সেই মতো ঘোষণা হবে  যথা সময়ে। দল সংগঠনকে শক্তিশালী করতে, নতুন উদ্যোগে, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে ভবিষ্যতের সব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ'। (TMC News)

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: ‘নতুন’ তৃণমূল! বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত? ৫৮ জনের সই জমা পড়ল, আরও ৬ আসবেন পরে

নতুন তৃণমূল গঠনের প্রক্রিয়া হিসেবেই এই ঘোষণাকে দেখছেন অনেকে। নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ মাথাচাড়া দেয়। সেই সময় মমতাকে বলতে শোনা যায়, "যাঁরা যাওয়ার তাঁরা চলে যান। আমি নতুন করে তৃণমূলকে তৈরি করব।" তবে তার পরও বেশ কিছু দিন কোনও সাংগঠনিক রদবদল চোখে পড়েনি। তবে বুধবার তৃণমূলের ৫৮ জন  বিদ্রোহী বিধায়ককে নিয়ে বিধানসভায় চিঠি জমা দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহারা। সেখানে তাঁরা নিজেদের 'আসল' তৃণমূল বলে দাবি করেছেন। আর তার পরই সব কমিটি ভেঙে দিল মমতার তৃণমূল।

আরও পড়ুন: 'অন্নপূর্ণা যোজনা'র টাকা ঢুকল অ্যাকাউন্টে, কত সংখ্যক মহিলা পেলেন?

এদিন বিধানসভায় ঢোকার মুখে বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়করা মমতাকেই 'নেত্রী' বলে উল্লেখ করেন। এমনকি স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতেও মমতার প্রতি আস্থার উল্লেখ রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতার প্রতি আস্থা থাকলেও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ পেয়েছে বিদ্রোহীদের। আর  সেই কারণেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন তিনি। এর আগে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব দিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন অভিষেক। মুখ্য সচেতক করতে বলা হয়েছিল ফিরহাদ হাকিমকে। এদিন বিদ্রোহীরা ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব জমা পড়েছে। ফিরহাদের পরিবর্তে মুখ্য সচেতক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামানকে।

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এত কিছুর পর এদিনই নবান্নে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে পৌঁছন তৃণমূলের বিদ্রোহী এবং পুরনো দিনের বিধায়করা। সেই তালিকায় রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, নয়না বন্দ্যোপাধ্য়ায়, কুণাল ঘোষ। আবার জাভেদ খান, অশোক দেব, ঋতব্রত, সন্দীপনরাও পৌঁছেছেন। কলকাতা, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী