কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, আশাবুল হোসেন ও শিবাশিস মৌলিক, কলকাতা : তৃণমূলের পরিষদীয় দল কি ভাঙতে বসেছে? জোরালো হচ্ছে প্রশ্ন। কারণ সূত্রের দাবি, শীর্ষ নেতৃত্বকে অন্ধকারে রেখেই পৃথক পৃথক ভাবে বৈঠক করছে অন্য গোষ্ঠী। এই বৈঠক করার জন্য দুই বহিষ্কৃত বিধায়কের দিকে আঙুল তুলেছেন মদন মিত্র। যদিও বৈঠকের বিষয়টা অস্বীকার করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা।

Continues below advertisement

বিধায়ক সংখ্যা কমতে কমতে ৮০-তে এসে ঠেকেছে। দলের কর্মসূচিতে অধিকাংশ জন প্রতিনিধি থাকছেন না। পুরসভাগুলিতে ইস্তফার হিড়িক পড়ে গেছে। তার মধ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভের বহিঃপ্রকাশও তো রয়েছেই। তৃণমূলের অবস্থা যেন এখন বালির প্রাসাদ। এই প্রেক্ষাপটে দলের কীর্তিকলাপ ফাঁস করে দিলেন খোদ দলেরই দুই বিধায়ক! দল বহিষ্কার করল দুই বিধায়ককে। একজন উলুবেড়িয়া পূর্বের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দ্বিতীয়জন এন্টালির সন্দীপন সাহা। এই ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে কি, তৃণমূলের পরিষদীয় দল ভাঙতে বসেছে ? জল্পনা উস্কে দিলেন তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক। কুণাল ঘোষ এবং মদন মিত্র। সূত্রের দাবি, তৃণমূল এখন কার্যত আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে এক গোষ্ঠী হোটেলে নিজেদের মধ্যে বৈঠকও সেরে ফেলেছে এবং দ্বিতীয় বৈঠকটি হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার এক তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে। 

এ প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক ও রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বললেন, "কোনও একটি হোটেলে কেউ কেউ গিয়ে দেখা করেছেন। সৎসঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎসঙ্গে সর্বনাশ। একবার সিপিএম থেকে বিতাড়িত। একবার তৃণমূল থেকে বিতাড়িত। ধন্যবাদ দেব রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। যে, দলে থেকে কারা অন্য জায়গায় চিঠি দিয়েছে ইত্যাদি, তিনি নিজেই এক্সপোজ করে দিয়েছেন। বিজেপির তো একটা রেকর্ড আছে, মহারাষ্ট্র মডেল থেকে অনেক মডেল আছে।"

Continues below advertisement

সূত্রের দাবি, শীর্ষ নেতৃত্বকে পুরোপুরি অন্ধকারে রেখে, সোমবার কলকাতার হোটেলে হওয়া বৈঠকে ৬ জন তৃণমূল বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। আর রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার তৃণমূল বিধায়কের বাড়ির বৈঠকে ছিলেন ৯ জন তৃণমূল বিধায়ক। এ প্রসঙ্গে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র বলেন, "কয়েকজন করছে, কেউ হোটেলে, কারও বাড়িতে, কোনও বিধায়কের বাড়িতে, কোথাও রুবির পাশের হোটেলে মিটিং করছে। সব খবরই তো আমাদের এসে গেছে।" এবিপি আনন্দর তরফে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, হোটেলের কথা বলছেন, যেখানে আপনাদেরই MLA-রা আলাদাভাবে মিলিত হয়েছে বা একজন MLA-র বাড়িতে বলছে মিলিত হয়েছে, সেখানে কি আপনার ডাক পড়েছে? উত্তরে মদন মিত্র বলেন, "না, আমায় কেউ ডাকে না। এরকম আমাদের কাছে খবর এসেছে। ২-১ জন MLA গেছে। তাঁরাও না বুঝেই গেছেন। তাঁরা ভেবেছেন পার্টির মিটিং হচ্ছে। আমার বিশ্বাস, যে ২ জনকে দল বহিষ্কার করেছে, এর বাইরে এই মুহূর্তে আর কেউ যাবে না।"

ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য় করেছেন বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক! ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "একমাস হয়নি ৬০ জন বিধায়ক গতকালের মিটিংয়ে যাননি।" এবিপি আনন্দর তরফে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি নাকি বারণ করেছেন অনেককে ? উত্তরে ঋতব্রত বলেন, "তাহলে তো বলতে হবে আমি সাঙ্ঘাতিক শক্তিশালী। আমি বারণ করলাম আর ৬০ জন বিধায়ক গেলেন না ?" 

এক মাসও হয়নি, ক্ষমতা থেকে গেছে তৃণমূল, তারইমধ্য়ে দল টুকরো হওয়ার জল্পনা চরমে !