কলকাতা: ফের পুলিশের জালে জাহাঙ্গির ঘনিষ্ঠ আরেক তৃণমূল নেতা (TMC Leader Arrested)। ফলতায় জাহাঙ্গির খান ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা বাপি শেখ গ্রেফতার। জাহাঙ্গির খান ঘনিষ্ঠ বাপি শেখকে গ্রেফতার করল নোদাখালি থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে, ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস, ভয় দেখানো সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে নোদাখালি থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন এক বিজেপি কর্মী। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই গতকাল রাতে বাপি শেখকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Continues below advertisement

দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের সদস্য এই বাপি শেখ যিনি জাহাঙ্গিরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। আপাতত ফলতা বিধানসভায় তৃণমূলের হয়ে দাঁড়ানো জাহাঙ্গিরের খোঁজে তল্লাশি চলছে। এর আগে আগে তার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, এবার তাঁর আরেক ঘনিষ্ঠ পুলিশের জালে।

Continues below advertisement

বিজেপির নেতা বজবজে বিজেপির প্রার্থী তরুণ আদক বাপি শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। বাপি কিন্তু সরকার বদলের পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন। তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে শেষমেশ তাঁর মোবাইল ফোনের টাওয়ার এবং বিভিন্ন সোর্স কাজে লাগিয়ে পুলিশ পাকড়াও করে। বজবজ এলাকা থেকেই গ্রেফতার হন তিনি। অভিযোগ ছিল তিনি এলাকায় সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরি করারও চেষ্টা করছিলেন।

সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল রাতেই তাঁকে নোদাখালি থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। বাপিকে গ্রেফতার পরে পুলিশ তাঁর থেকে সাম্প্রদায়িক বিভেদ ও ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় কোনও তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেই নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। পাশাপাশি তিনি জাহাঙ্গির ঘনিষ্ঠ, তাই তাঁর উস্কানিতেই না মাথায় অন্য কোনও কারুর হাত থাকায় অকুতোভয় হয়ে তিনি নিজেদের এইসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিলেন, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

প্রসঙ্গত, এর আগে বেপাত্তা জাহাঙ্গির-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা ইসরাফিল চকদারকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। ধৃত ফলতার বঙ্গনগর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান। ইসরাফিলের বিরুদ্ধে মারধর, হুমকি, প্রতারণার অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়। অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় বেপাত্তা পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। তার গ্রেফতারির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলতার শ্রীরামপুরে জাহাঙ্গিরের বাড়ি ভেতর থেকে তালাবন্ধ করা রয়েছে। এরমধ্যে গতকাল জাহাঙ্গির খানের রক্ষাকবচ তুলে নিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইছে ফলতার সাধারণ মানুষ।