সোমনাথ মিত্র, হুগলি: সমবায় সমিতিতে কোটি টাকা আর্থিক তছরুপের অভিযোগ! নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারকে প্রায় ১ কোটি টাকা ঋণ পাইয়ে দেবার অভিযোগে এবার গ্রেফতার করা হল, জাঙ্গিপাড়ার তৃণমূল নেতাকে। রশিদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং স্থানীয় একটি সমবায় সমিতির ম্যানেজার স্বপন পাত্রকে রবিবার রাতে গ্ৰেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময়ে, চোর চোর স্লোগান তোলেন বিজেপি কর্মীরা।

Continues below advertisement

পর্যাপ্ত নথি ছাড়াই দেওয়া হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার ঋণ!

এই ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, জুন মাসের ৫ তারিখে জাঙ্গিপাড়ার স্থানীয় একটি সমবায় সমিতিতে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ দায়ের করেন এক গ্ৰাহক । সেই মতো তদন্তে নেমে, বিরাট দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে এবং সমবায়ের এক কর্মী রমেশ পাত্রকে গ্ৰেফতার করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এরপরেই উঠে আসে বিস্ফোরক তথ্য। দেখা যায় সমবায় সমিতিটি নিয়ম বহির্ভূতভাবে কোনও পর্যাপ্ত নথি ছাড়াই জাঙ্গিপাড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে ৮৫ লক্ষ টাকা ও তার স্ত্রীকে ১০ লক্ষ টাকা ঋণ দিয়েছে। পাশাপাশি অন্যদের সুদের হারের থেকে কম সুদের হার দেখিয়ে স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে ঋণ প্রদান করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সমবায় সমিতির ঋণ দেওয়ার উর্ধ্বসীমা অনেক গুণ অতিক্রম করেই, নিয়ম বহির্ভূত ভাবে এই ঋণ তৃণমূল নেতাদের দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে । 

Continues below advertisement

এইসব একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পরেই, পুলিশের উপস্থিতিতে জেলা সমবায় দপ্তরের আধিকারিকরা সমবায়টি বন্ধ করে দেন। এবং এই দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে সমবায় সমিতির ম্যানেজার তথা প্রাক্তন মন্ত্রী ঘনিষ্ট রশিদপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান স্বপন পাত্রকে গ্ৰেফতার করে পুলিশ। অভিযুক্তকে আজ মহকুমা আদালতে পাঠানো হবে বলে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত স্বপন পাত্রকে গাড়ি করে থানায় নিয়ে আসার সময়ে, চোর চোর বলে স্লোগান তোলেন বিজেপি কর্মীরা। ঘটনা প্রসঙ্গে জাঙ্গিপাড়ার বিজেপি বিধায়ক প্রসেনজিৎ বাগের অভিযোগ, স্বপন পাত্র কোনও নিয়ম না মেনেই, দলের লোককে দিনের পর দিন লক্ষ লক্ষ টাকা লোন দিয়ে গিয়েছেন। স্নেহাশিস চক্রবর্তী ধাপে ধাপে ৮৫ লক্ষ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে ১০ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছেন। পাশাপাশি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তমাল শোভন চন্দ্র ১৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছেন। এসব লোন দেওয়ার ক্ষেত্রে যা যা পর্যাপ্ত নথি প্রয়োজন তা নেই। এখনও অবধি এইভাবে ঋণ দেওয়া  ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকার কোনও হিসাব নেই। বিধায়ক এটাও জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে আমানতকারীদের ঘাবড়ানোর কিছু নেই। কৃষকরা তাদের প্রাপ্য টাকা ফেরত পাবে।

আরও পড়ুন: Radharaman Das: ইসকনের সমস্ত পদ থেকে সরানো হল রাধারমণ দাসকে, কোন কারণে এই কঠিন পদক্ষেপ?