গৌতম মণ্ডল, পাথরপ্রতিমা: আবাস যোজনায় (Awas Yojana) মিলবে ঘর-বাড়ি, সঙ্গে থাকবে নানা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা উপভোগ করার সুযোগ --- এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েই এক তৃণমূল নেতা গ্রামবাসীদের থেকে নিয়েছিলেন কাটমানি। এই ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা (Patharpratima) ব্লকের দক্ষিণ রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতে। গ্রামবাসীরা অনেক আশা নিয়ে সেই নেতাকে টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনওরকম লাভ হয়নি। সময় যত এগোতে থাকে, গ্রামবাসীদের ধৈর্যের বাধ ভাঙতে থাকে। কাটমানি ও দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাথরপ্রতিমায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষুব্ধ জনতা জুতোপেটা ও গণধোলাই করেন অভিযুক্ত তৃণমূল (TMC) নেতাকে।
গ্রামবাসীদের মূল অভিযোগ স্থানীয় তৃণমূল নেতা অনন্ত হালদারের দিকে। পাথরপ্রতিমায় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা অনন্ত হালদারকে একটি দোকান থেকে ধরে টেনে বের করেন উত্তেজিত জনতা। স্থানীয় বাসিন্দাদের বহুদিনের জমে থাকা ক্ষোভ বেরিয়ে আসতে থাকে। এরপর তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি সুশান্ত দাস, উপপ্রধান ও অন্যান্য সদস্যদের ওপরও বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ চড়াও হয়। গণধোলাইয়ের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকে জুতোপেটাও করেন গ্রামবাসীরা। এই গণধোলাইয়ের ফলে সুশান্ত দাস আহত হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ঢোলাহাট থানার পুলিশ। ক্ষোভে ফেটে পড়া গ্রামবাসীদের হাত থেকে অভিযুক্তদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। তবে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের গ্রামবাসীদের রোষের কবল থেকে বের করতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। এই ঘটনার ফলে এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
তৃণমূল জমানার অবসানের পর পশ্চিমবঙ্গ দেখছে পরিবর্তন। দুর্নীতি, তোলাবাজি, কাটমানির অভিযোগ ওঠা তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়েছে বিজেপি সরকার। রাজ্যে পালাবদলের পর জেলায় জেলায় বহু তৃণমূল নেতাদের কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়ার খবর বার বার প্রকাশ্যে এসেছে। কখনও কখন তাঁদের অনেকে আবার স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের মুখেও পড়েছেন। এখানেই শেষ নয়, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে, মাঝে মাঝে তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে ডিমও ছুড়ছেন অনেকে।
অন্যদিকে, একইদিনে তৃণমূলের ৬ নেতা ও কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হুগলি জেলার ধনিয়াখালিতে বিজেপি নেতার বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর আগুন লগিয়ে দেওয়া, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভয় দেখানো এবং টাকা-পয়সা লুঠ সহ একাধিক ঘটনার অভিযোগ। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে তৃণমূলের ৬ জন নেতা ও কর্মীকে।
