কামারহাটি : ভোট-মুখী পশ্চিমবঙ্গে চর্চায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। 'বিজেপি সরকার এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করে দেবে।' এমনই মন্তব্য করলেন কামারহাটি পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বিমল সাহা। গতকাল নিজের এলাকায় লক্ষ্মীর ঘট বিলি করে এই দাবি করেন তিনি। যার পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি। 'লক্ষ্মীর সুরক্ষাটা নিশ্চিত করুক' বলে নিশানা গেরুয়া শিবিরের।
বিমল সাহা বলেন, "আমরা ঘট বিলি করলাম যে, আপনারা সেই টাকা খরচ করবেন। ঘটেও জমান। বছরের শেষে পুজোর সময় এই টাকায় আনন্দ করুন। যারা গরিব মানুষ তাদের কাছে এই টাকা বিশাল টাকা। বিরোধীরা দেখবেন, সবাই টাকা নিচ্ছে। ভোট কীসের জন্য কেনা হবে ? টাকা তো আমি বিলি করলাম, ওটা ঘটে ফেলার জন্য। বিরোধীরা যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে প্রথমে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করে দেবে। তারা ক্ষমতায় আসবে না। যারা যারা ঠিক করেছেন যে বিজেপিকে ভোট দেবেন, ভোটটা নষ্ট করবেন না। বিজেপি সর্বনাশের দল একখানা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করে দেবে তো বিজেপি সরকার এলে। বিজেপি যদি কোনও মতে চুরি-চামারি করে আসে, তারা প্রথমেই বন্ধ করে দেবে। মানুষকে সতর্ক করলাম।" পাল্টা বিজেপি নেতা জয় সাহা বলেন, "সরকার চালানোর টাকা নেই। রাজ্য সরকার DA দিতে পারছে না। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়ে নাটক না করে, লক্ষ্মীর সুরক্ষাটা নিশ্চিত করুক। লক্ষ্মীর ভবিষ্যৎ যেন ভাল হয় সেটা চিন্তা করুক। এইগুলো নিয়ে না ভেবে পয়সা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে। যে রাজ্যগুলোয় বিজেপি ক্ষমতায় আছে, সেই রাজ্যগুলোয় এক হাজার, ১৫০০ নয়। তার থেকে কতগুণ বেশি দেওয়া হয়, সেটা দেখুক আগে। তারপরে এইসব মন্তব্য করুক। ভোট কেনার চেষ্টা। এই করে ভোট কিনে, মানুষ ভয় দেখিয়ে ভোট দেওয়া করাতে চাইছে। কিন্তু, কিছু লাভ নেই। মানুষ এবার লক্ষ্মীর সুরক্ষা চায়। লক্ষ্মীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ চায়।"
প্রত্যাশা ছিলই। ঘটেও তাই। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার প্রকল্প ডিভিডেন্ড দিয়েছিল তৃণমূলকে। মহিলাদের ঢালাও সমর্থন পেয়ে তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসেছিল রাজ্যের শাসকদল। এবারও সেই অস্ত্রতেই শান দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যাশা মতোই বাড়ানো হয় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাসিক বরাদ্দ। বর্তমানে 'জেনারেল কাস্টে'র মহিলারা 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পে প্রতিমাসে ১ হাজার টাকা পান। SC-ST-র মহিলারা প্রতি মাসে ১২০০ টাকা করে পান। এবার এলাফে বেড়ে গেছে অনেকটা টাকা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বরাদ্দ বেড়েছে ৫০০ টাকা । অন্তর্বর্তী বাজেটে বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের। সাধারণ মহিলারা মাসে পাবেন ১৫০০ টাকা করে, এসসি-এসটি-রা মাসে পাবেন ১৭০০ টাকা করে।
