কলকাতা : মাঝে আর একটা দিন! সোমবার সকাল থেকেই শুরু হয়ে যাবে ভোট গণনা। এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় কালীঘাট থানার ওসি গৌতম দাসের একটি ছবি ঘিরে শুরু হল বিতর্ক। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি। সেই ছবির সঙ্গেই লেখা রয়েছে— ‘নতুন অ্যাসাইনমেন্টের জন্য তৈরি’। এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। 

Continues below advertisement

এই বিষয়টি নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরেও চিঠি পাঠিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। চিঠিতে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, “এই আগ্নেয়াস্ত্র কি ওঁকে সরকারিভাবে দেওয়া হয়েছে? তিনি কি এই ধরনের অস্ত্র চালানোর জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত?” 

তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশের মতে, ভোটের আবহে এ ধরনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর ফলে ভুল বার্তা যেতে পারে।জয় প্রকাশ মজুমদার লিখেছেন, এই ছবি শুধু উদ্বেগজনকই নয়। বরং আইনের দৃষ্টিতেও অত্যন্ত আপত্তিকর। তাঁর হাতে একটি অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে, যা তিনি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কারও দিকে তাক করে রেখেছেন। পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে, যথাযথ প্রতিকার ও অবিলম্বে হস্তক্ষেপের জন্য আপনার কাছে গুরুতর এই অভিযোগ জানাচ্ছি। এই ছবি নিয়ে আপত্তির কারণ হিসেবে জয়প্রকাশ আরও লিখেছেন, 'প্রথমত, আমাদের রাজ্য়ে কর্তব্য়রত কোনও পুলিশ আধিকারিকই উর্দি পরা অবস্থায় নিজের ছবি তুলে, তা সমাজমাধ্য়মে পোস্ট করতে পারেন না। দেশের অনেক রাজ্য়েই একই বিধিনিষেধ বলবৎ রয়েছে। পাশাপাশি, সোশ্য়াল মিডিয়ায় ব্য়বহারের ক্ষেত্রে, ভারত সরকারের বর্তমান প্রটোকল অনুযায়ী, অস্ত্রের এমন প্রদর্শন, তাও আবার হুমকিসূচক ক্য়াপশনের সঙ্গে, তা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। '

Continues below advertisement

ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে কমিশনের কাছে। যদিও এই বিতর্ক নিয়ে এখনও পর্যন্ত কালীঘাট থানার ওসি গৌতম দাস বা কলকাতা পুলিশের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। 

আরও পড়ুন :  স্ট্রং রুমের ভিতর থেকে তৃণমূল কর্মীদের ফেসবুক লাইভ, জয় বাংলা স্লোগান! ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বিজেপি প্রার্থী