কলকাতা: পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছতে পারলেন না তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক সময়ে বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে পৌঁছে গেলেও, তাঁর হেলিকপ্টারটিকে ওড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ ক্ষণ অনুমতির জন্য অপেক্ষা করে, কথা বলেও সমস্যার সুরাহা হয়নি এদিন। শেষ পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের হেলিকপ্টারে চেপেই বীরভূম রওনা দিলেন অভিষেক। (Abhishek Banerjee)

Continues below advertisement

বুধবার বীরভূমে একাধিক কর্মসূচি রয়েছে অভিষেকের। রামপুরহাটের বিনোদপুর মাঠে সভা করবেন বলে ঠিক ছিল। বেলা সওয়া ১২টা নাগাদ তারাপীঠের চিলার মাঠে নামার কথা ছিল তাঁর হেলিকপ্টারের। তারাপীঠের মন্দিরে পুজো দিয়ে অভিষেক সভাস্থলে পৌঁছবেন বলে ঠিক ছিল সকাল পর্যন্তও। বাংলাদেশ থেকে কাঠখড় পুড়িয়ে ফিরিয়ে আনা সোনালি বিবিকেও দেখতে যাওয়ার কথা ছিল রামপুরহাট হাসপাতালে, যিনি গতকালই পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। কিন্তু দুপুর ২টো বেজে গেলেও অভিষেকের হেলিকপ্টার উড়তে পারেনি। (Abhishek Banerjee Helicopter Issue)

শেষ পর্যন্ত সওয়া ২টোর পর একটি হেলিকপ্টারে চেপে বীরভূম উড়ে যান অভিষেক। পরে জানা যায়, নিজের জন্য বরাদ্দ হেলিকপ্টারে উঠতে পারেননি অভিষেক। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত DGCA-র তরফে অনুমতি না মেলায়, হেমন্তের হেলিকপ্টারে টেপে রামপুরহাট রওনা দেন তিনি। গোটা ঘটনায় বিজেপি-র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছে বিজেপি। DGCA-র আধিকারিকদের মাধ্যমে তারাই কলকাঠি নেড়েছে বলে অভিযোগ জোড়াফুল শিবিরের।

Continues below advertisement

তৃণমূল জানিয়েছে, আজ যে হেলিকপ্টার নিয়েছিলেন, আজ তাতে উঠতে পারেননি তিনি। আজ যেটিতে চেপে উড়ে গিয়েছেন, সেটি একদিনের জন্য ভাড়া নিয়েছেন হেমন্তের কাছ থেকে। তৃণমূলের তরফে কথা বলে সেই হেলিকপ্টার ভাড়া নেওয়া হয়। এক দিকে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা SIR, অন্য দিকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন, সেই উপলক্ষে জানুয়ারি মাস জুড়ে একাধিক কর্মসূচি রয়েছে অভিষেকের। প্রায় ১৯ দিনে ২৬টি সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে অভিষেকের। 'আবার জিতবে বাংলা' স্লোগান দিয়ে গোটা রাজ্যে কর্মসূচিতে নেমেছেন তিনি। এতে ভয় পেয়েই অভিষেকের হেলিকপ্টারকে অনুমতি দেওয়া হয়নি, অভিষেককে আটকানোর চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। এর আগে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা গিয়েছে। এবার অভিষেক সমস্যায় পড়লেন।

এ নিয়ে DGCA-র তরফে এখনও পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, প্রশাসনিক কারণেই অনুমতি পাওয়া যায়নি। বিজেপি যদিও তৃণমূলের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, "অভিষেকের মতো ব্যক্তির সুরক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। DGCA সেটাই করছে।" তবে নিজেদের অবস্থানে অনড় তৃণমূল। তাই রামপুরহাটের সভা থেকে ঘোষণা করা হয়, "হাজারো প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে, বিজেপি-র নোংরা রাজনীতিকে হারিয়ে রামপুরহাট আসছেন অভিষেক।"