কলকাতা: খসড়া তালিকায় নাম ওঠেনি। SIR-শুনানিতে ডাক পেলেন লোকসভায় তৃণমূলের চিফ হুইপ তথা দলের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবারের সদস্যেরা। কাকলির মা, ৯০ বছর বয়সি ইরা মিত্রকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। শুনানিতে ডাকা হয়েছে কাকলির দুই ছেলে, পেশায় চিকিৎসক বিশ্বনাথ দস্তিদার ও বৈদ্যনাথ দস্তিদারকে। কাকলির ছোট বোন পিয়ালি মিত্রকেও ডাকা হয়েছে শুনানির জন্য। (Kakoli Ghosh Dastidar News)
কাকলির দুই ছেলে কলকাতার ভোটার। মা ও বোন উত্তর ২৪ পরগনায় ভোট দিয়ে এসেছেন এতদিন। মধ্যমগ্রামের দিগবেরিয়ায় ভোট দিয়ে এসেছেন তাঁরা। সেই মতো কাকলির দুই ছেলেকে কলকাতায় এবং মা ও বোনকে বারাসত ২ নম্বর ব্লকে শুনানিতে হাজির হতে বলা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। (SIR in Bengal)
গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছেন কাকলি। সরাসরি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিজেপি-র অঙ্গুলিহেলনেই SIR-এর খসড়া ভোটার তালিকা তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, "যার নাম বাদ দিতে ইচ্ছে হচ্ছে, বাদ দিচ্ছে কমিশন।"
কাকলির অভিযোগ, এতদিন ভোট দিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এখন হঠাৎ ডাকা হয়েছে শুনানিতে। শাসকদলের জনপ্রতিনিধিদের বেছে বেছে হেনস্থা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন কাকলি। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সোহম পালও।
এবিপি আনন্দে কাকলি বলেন, "আমি যে বুথে ভোট দিই, সেই বুথেই ভোট দেয় মা ও বোন। খসড়া তালিকায় তাদের নাম নেই। আমার দুই ছেলে প্রতিষ্ঠিত। তাদেরও নাম নেই। এইরকম যারা বৈধ বাসিন্দা, বহু বছর ধরে ভোট দিচ্ছে এবং যারা নিঃসন্দেহে ভারতের নাগরিক, বিগত দিনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে, যাদের বাবা প্রাক্তন মন্ত্রী, তাদের নাম যদি বাদ দিতে পারে, তাহলে বাংলা জুড়ে কী তঞ্চকতা হচ্ছে, তা সহজেই অনুমেয়। ওরা চাইছে, যেনতেন প্রকারে বাংলার ভোটকে কলুষিত করে বিজয় লাভ করতে।"
যদিও বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, "নিশ্চয়ই কাগজে কিছু গন্ডগোল হয়েছে। কোনও কানেকশনে নিশ্চয়ই ভুল হয়েছে কোথাও। আর শুনানিতে ডাকলে এত চিন্তার কী? এ নিয়ে রাজনীতিরই বা কী আছে। কথায় বিজেপি-কে টানছেন কেন?"
SIR-এর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর শনিবার থেকে শুনানি শুরু হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে ৩২ লক্ষ ভোটারকে। নো ম্যাপিংয়ে থাকা ভোটারদের প্রথমে ডাকা হচ্ছে। ২০০২-র তালিকায় যাঁদের যোগসূত্র মেলেনি, তাঁদেরই প্রথমে ডাকা হচ্ছে। এর জন্য ৪ হাজার ৬০০ মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। শুনানির দায়িত্বে থাকবেন ERO এবং AERO-রা। ২৯৪টি বিধানসভার প্রত্যেকটিতে ১১টি করে টেবিলে শুনানি হবে। মোট ৩ হাজার ২৩৪টি টেবিলে শুনানি। কলকাতায় শুনানি হবে ১২১টি টেবিলে। শুনানির পর ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।