কলকাতা : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী নিয়ে জল্পনা চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই। এরই মধ্য়ে দিনকয়েক আগে দলের রাশ যে তাঁরই হাতে আছে, পরিষদীয় দলের বৈঠকে আরও একবার বুঝিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে এমনও বলতে শোনা যায়, "আমার কোনও পরিবার নেই। দলই হচ্ছে আমার পরিবার। মানুষই আমার পরিবার।" এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন দলনেত্রী নিজেই। এই আবহে নিজের অবস্থান বদল করে ডিগবাজি দিলেন বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়ও। গত নভেম্বরে তিনি 'পার্টি ডে টু ডে চালানোর জন্য' অভিষেককে দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। এবার অবশ্য আগের অবস্থান থেকে উল্টো সুরে তিনি মন্তব্য করেন, "আমি মনে করি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিমো। তিনি যেভাবে যাকে যে দায়িত্ব দেবেন, তাঁরা করবেন।"
এদিন সৌগত বলেন, "আগে কী বলেছিলাম, আমরা মনে নেই। আমি মনে করি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিমো। তিনি যেভাবে যাকে যে দায়িত্ব দেবেন, তাঁরা করবেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাপারে আমি বলার কে ? তিনি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। একটা কেন্দ্রের সাংসদ। তিনি সেই কেন্দ্রে অনেক কাজ করছেন বলে দেখছি, কিন্তু তার বাইরে কী দায়িত্ব হবে আমি বলতে পারব না।"
গত ৪ নভেম্বর ২০২৪ কী বলেছিলেন ?
নভেম্বরে অবশ্য বর্ষীয়ান সাংসদ বলেছিলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তো সরকারি-প্রশাসনিক কাজে অনেকটা সময় দিতে হয়। অভিষেক হোল টাইম নিয়ে পার্টি দিলে... ওঁর উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বাস আছে, আবার পার্টি কর্মীদেরও বিশ্বাস আছে। ভালো হবে। একই লোক চালাতে পারে নাকি ! এত লোড নিতে পারে...একটা এত বড় ১০ কোটি লোকের রাজ্য ! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ কথা। কিন্তু, পার্টি ডে টু ডে চালানোর ক্ষেত্রে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া দরকার। সেটা অভিষেক, আর কেউ নেই।"
দলের রাশ তাঁরই হাতে, দিনকয়েক আগে পরিষদীয় দলের বৈঠকে আরও একবার বুঝিয়ে দেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে থেকে রদবদলের প্রথম বার্তা দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। সূত্রের খবর, সেই সংক্রান্ত রিপোর্টও মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কাছে জমা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইঙ্গিতপূর্ণ বিষয় হল, পরিষদীয় দলের বৈঠকে সাংগঠনিক রদবদল প্রসঙ্গে অভিষেকের রিপোর্টের কোনও উল্লেখই করেননি মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। পাশাপাশি একাধিক নেতা-মন্ত্রী-বিধায়ককের উদ্দেশ্য়ে বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী। বলেন, দল-বিরোধী মন্তব্য় কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য় নয়। একই ভুল বারবার করলে ক্ষমা করা যায় না। পাশাপাশি, দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়েও একাধিক নেতাকে কড়া বার্তা দেন তৃণমূলনেত্রী।