কৃষ্ণেন্দু অধিকারী : তৃণমূলে সংসদীয় দলেও ভাঙন জল্পনা। কিছুক্ষণ আগেই বেশ কিছু তৃণমূল সাংসদের দিল্লিতে গোপন বৈঠকের খবর সামনে আসে। একই সময়ে 'ইন্ডি' ব্লকের বৈঠকে যোগ দিতে রাজধানীতে রয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এই আবহে নিজের অবস্থান এবং দলের একাংশ সাংসদের বিদ্রোহ নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার তিনি বলেন, "তৃণমূল সাংসদদের কিছু ভয়ে, কিছু লোভে অন্যদিকে যেতে পারেন। সেটাই হচ্ছে এখন। সংখ্যা নিয়ে জল্পনা করতে চাই না। এরা তো খুব নির্ভরশীল লোক নন। আমার মনে হয়, ১৩-১৪ জন হতেও পারে।" তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনার স্ট্যান্ড কী ? উত্তরে সৌগত বলেন, "আমি বরাবর...আমি ভেবেছি অনেক এই নিয়ে। দিল্লির কিছু বিজেপি নেতা অ্যাপ্রোচ করেছিলেন। আমি তাঁদের ভেবে দেখছি বলে-টলে ...তারপর বলে দিয়েছি, আমি এখন তৃণমূল ছাড়ছি না।"
একদিকে, পরিষদীয় দল অন্যদিকে সংসদীয় দল। কোনও কিছু নিয়েই এখন স্বস্তিতে নেই একদিন ক্ষমতার শীর্ষে বসে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। আজ তিনি দিল্লিতে 'ইন্ডি' জোটের বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। সোমবারই সংসদীয় দলে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত মিলেছে। দিল্লিতে বসেই কি পরিষদীয় দলে আরও ভাঙনের সম্মুখীন হতে হবে তাঁকে ? এই জল্পনার মধ্যে দিল্লিতে গোপন বৈঠকে বসেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। অন্তত ২০ জন তৃণমূল সাংসদের সেখানে থাকার কথা জানা যায় সূত্র মারফৎ।
সূত্রের আরও খবর, বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে আছেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, অরূপ চক্রবর্, জগদীশ বাসুনিয়া, কালীপদ সোরেন, আবু তাহের, অসিত মাল, শর্মিলা সরকার, খলিলুর রহমানরাও।
ইঙ্গিত মিলছিলই যে, যেদিকে এগোচ্ছে তৃণমূলের সংসদীয় দল, তাতে ভাঙন সময়ের অপেক্ষা। সুখেন্দুশেখর রায় প্রথম এটা জানিয়েছিলেন। যেহেতু তিনি লোকসভার অনেক সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন। যারা দলের মধ্যে থাকবেন না বলে পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের অনেকেই তাঁকে ঘন ঘন ফোন করেছিলেন। সেই থেকেই একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছিল, যেভাবে বিভানসভায় পরিষদীয় দল ভেঙে গেছে, লোকসভা এবং রাজ্যসভায়ও তৃণমূলের যে সংসদীয় দল রয়েছে তা ভাঙা সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু, এত দ্রুত যে তা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। এরইমধ্যে দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে শুভেন্দু অধিকারী, বিপ্লব দেবরা। সূত্রের খবর, ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতেই রয়েছেন একাধিক তৃণমূল সাংসদ।
