বেলডাঙ্গা: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে জলঘোলা শুরু। তৃণমূলের খুনের তত্ত্ব খারিজ করেছে পুলিশ। খুন নয়, ঝাড়খণ্ডে 'আত্মঘাতী' বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিক! এমনটাই জানানো হয়েছে মুর্শিদাবাদের পুলিশের পক্ষ থেকে। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে সেই পরিযায়ী শ্রমিককে খুন করা হয়েছে। তবে তৃণমূলের তত্ত্ব খারিজ করে জানিয়ে দিল পুলিশ।
মুর্শিদাবাদ পুলিশের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্তের পর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ''ঝুলন্ত অবস্থায় আলাউদ্দিনের দেহ উদ্ধার, মেলেনি খুনের চিহ্ন। বেলডাঙার বাসিন্দা শ্রমিকের দেহে যে ক্ষত মিলেছে, তাও পুরনো।'' মুর্শিদাবাদ পুলিশের পক্ষে আরো জানানো হয়েছে, ''যেখানে আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যু, সেই ঘর পরীক্ষা করা হয়েছে। যারা আলাউদ্দিনের দেহ দেখেছে, তাদের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। আলাউদ্দিনের সঙ্গী পরিযায়ী শ্রমিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। ঝাড়খণ্ডের বিশরামপুর থানার ASI-র সঙ্গেও কথা বলেছে পুলিশ,'' পুরো তদন্তপ্রক্রিয়ার ভিডিও দেখিয়েছেন মুর্শিদাবাদ পুলিশ। এদিকে, মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক তৃণমূল জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার জানিয়েছেন, ''আমরা তদন্তকারী সংস্থা নই। পরিবারের অভিযোগ থাকতেই পারে। সত্য উঠে আসুক। দোষীরা গ্রেফতার হোক।''
ঠিক কী হয়েছিল বেলডাঙ্গার সেই শ্রমিকের সঙ্গে?পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর অনুযায়ী, ঝাড়খন্ডের বিশ্রামপুরে একজন ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করতেন বেলডাঙার সুজাপুরের বাসিন্দা যুবক মহম্মদ আলাউদ্দিন শেখ। গত ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। এরপরই স্থানীয়দের দাবি ছিল যে খুন করা হয়েছে ওই যুবককে। এদিকে, এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্যের শাসক দল ও বিরোধী শিবির একে অপরের দিকে আঙুল তোলা শুরু করে দিয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বেলডাঙার মহেশপুর এলাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়েছিল। লালগোলা থেকে শিয়ালদহগামী মেমু ট্রেন বাতিল করা হয়েছিল ২ দিন।
এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, 'বেলডাঙা আপনারা জানেন কাদের কাদের প্ররোচনা আছে। আমি আর নতুন করে বলতে চাই না।' আবার পাল্টা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, 'আগুন লাগাচ্ছে তৃণমূল, পুড়বে তৃণমূল, মরবে তৃণমূল। এতদিন বিজেপি শাসিত রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর অত্যাচার ও খুনের অভিযোগ উঠেছে। এবার সেই অভিযোগ উঠল JMM ও কংগ্রেস শাসিত ঝাড়খণ্ডের মাটিতে।' মুর্শিদাবাদের সাংসদ ইউসুফ পাঠানের ঘটনার বেশ কিছুদিন পরে সেই এলাকায় যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।