পার্থপ্রতিম ঘোষ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : ধর্ষণের অভিযোগের পর এবার ভোট পরবর্তী অশান্তির অভিযোগ। ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাসকে CID-র তলব। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ভবানী ভবনে বিধায়ক পরেশরাম দাসকে তলব। ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত ভোটে এলাকায় অশান্তির অভিযোগ। খুনের চেষ্টা, অস্ত্র আইনের মামলা রয়েছে তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে। বর্তমানে 'ঋতব্রত-তৃণমূল'- এর সঙ্গে রয়েছেন এই পরেশরাম দাস। 

Continues below advertisement

২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটের পর একটি অশান্তির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। মারপিটেই থেমে থাকেনি অশান্তি। গুলি চলার মতো ঘটনা ঘটেছিল। খুনের চেষ্টার ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল ওই ঘটনায়। ২০২৩ সালের এই মামলার দায়িত্বভার হাই কোর্টের নির্দেশে গ্রহণ করে সিআইডি। গত মে মাসে এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করে সিআইডি। সেখানে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা, গন্ডগোল, মারধর, খুনের চেষ্টা - এইসব ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এছাড়াও অস্ত্র আইনেও মামলা হয়েছিল। এই মামলায় আগামী বুধবার ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬- এ দুপুর ১২টায় ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাসকে ভবানী ভবনে তলব করেছে সিআইডি। 

CJP আন্দোলনে যাওয়ায় ছাত্রের বাবাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ, থানার সামনে অভিযুক্ত ব্যস্ত রাখি উৎসবে 

Continues below advertisement

পরেশরাম দাসের নামে রয়েছে ভূরি ভূরি অভিযোগ। তাঁর মায়ের নামে যে আশ্রম রয়েছে সেটি নদীর চর দখল করে বানানো হয়েছে বলে অভিযোগ। কয়েকদিন আগে এই আশ্রমের দখল নিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যেই সিআইডি- র তরফে নোটিস পাঠানো হয়েছে পরেশরাম দাসকে। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটের সময়ে যে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, তার তদন্তের দায়িত্বভার নেওয়ার পর অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। আর তাতেই তদন্তকারীদের বক্তব্য যে বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন এবং সেই কারণেই তলব করা হয়েছে ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাসকে। 

ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাসের বিরুদ্ধে উঠেছে ধর্ষণের অভিযোগ। বছর তিনেকের আগের মামলায় ক্যানিংয়ের SDPO-র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মহিলা। মিথ্যে অভিযোগে কলঙ্কিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত বিধায়ক। মহিলার অভিযোগ, ২০২৩-এ পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তাঁর স্বামীকে পঞ্চায়েত সদস্যের জন্য টিকিট পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৪ লক্ষ টাকা দাবি করেন পরেশরাম দাস। অভিযোগকারিণীর দাবি, স্বামীর কথা মতো সেই টাকা তিনি পরেশরাম দাসের হাতে পৌঁছে দিতে বিধায়কের তৈরি বৃদ্ধাশ্রমে গেলে তাঁকে শারীরিক হেনস্থার শিকার হতে হয়। নির্যাতিতার অভিযোগ, ৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর তাঁকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক। আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হল, ক্যানিং থানায় নালিশ জানাতে গেলেও, তৃণমূল আমলে FIR দায়ের করা হয়নি।